দিল্লি যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে সংঘাতের দিন কি তবে শেষ?
.jpeg.webp?w=1166&resize=1166,778&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণে এক বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। আগামী ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আর এই বৈঠকে যোগ দিতে দেশের রাজধানীতে যাচ্ছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতি আয়োগের বৈঠকে তাঁর এই উপস্থিতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের আবহ কাটিয়ে এবার কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের এক নতুন সমন্বয়ের বার্তা উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ
গত কয়েক বছর ধরে নীতি আয়োগের বৈঠককে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন তৃণমূল সরকারের মধ্যে দফায় দফায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন যে, বৈঠকে তাঁকে পর্যাপ্ত বলতে দেওয়া হয়নি, এমনকি মাইক বন্ধ করার অভিযোগে তিনি মাঝপথে বৈঠক ছেড়েও বেরিয়ে এসেছিলেন। পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ২০২৫ সালের নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কট করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। তখন বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বৈঠকে অংশ না নিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন ও আর্থিক পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এবার রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সোমবার নীতি আয়োগের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প রাজ্যে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন, যা আগামী ১১ জুনের মূল বৈঠকের একটি ইতিবাচক রূপরেখা তৈরি করেছে।
অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী ও নতুন ত্রিমুখী সমীকরণ
এবারের নীতি আয়োগের বৈঠকটি পশ্চিমবঙ্গের জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেই নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিশিষ্ট বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অশোক লাহিড়ী। ২০২১ সালের নির্বাচনে বালুরঘাটের বিধায়ক হওয়া এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল প্রার্থী না করায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মোদী সরকার তাঁকে নীতি আয়োগের শীর্ষ স্তরে নিয়ে আসায় বাংলার জন্য এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে ১১ জুনের বৈঠকে একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান পদে অশোক লাহিড়ী—এই ত্রিমুখী বাঙালি ও কেন্দ্রীয় সমীকরণ রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নয়ন ও সমন্বয়ের রাজনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় নতুন সরকারের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত করা। এতদিন যে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর কথা বলা হতো, নীতি আয়োগের এই বৈঠক হতে পারে তার কার্যকারিতা প্রমাণের প্রথম বড় মঞ্চ। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সঠিক রূপায়ণ, বকেয়া আর্থিক বরাদ্দ আদায় এবং রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সামনে। ফলে এই বৈঠক কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি বড় মোড় ঘোরাতে পারে।