বাংলার কর্মসংস্থানে নতুন মোড়, জুনে চালু হচ্ছে ১২৫ দিনের কাজ

ইউপিএ আমলের ঐতিহাসিক একশো দিনের কাজের প্রকল্প আবার নতুন রূপ নিয়ে ফিরছে বাংলায়। তবে এবার আর তা একশো দিনে সীমাবদ্ধ থাকছে না, গ্রামীণ কর্মসংস্থানের এই মেয়াদের সময়সীমা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১২৫ দিন। আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে ‘জি রাম জি’ নামের এই বিশেষ প্রকল্প। সোমবার নবান্নে রাজ্যের সমস্ত দফতরের সচিবদের নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্প চালুর সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
আধার এবং ভোটার কার্ড বাধ্যতামূলক
নতুন এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নবান্নের বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পে যাঁরা কাজ পাবেন, তাঁদের আইনি পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের আবেদন ও নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত দিনে রাজ্যের যে সমস্ত জেলায় একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, সেই সব জেলার পুরনো অনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টানাপড়েনের অতীত ও নতুন প্রভাব
দীর্ঘ সময় ধরে একশো দিনের কাজের প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকার এবং কেন্দ্রের মোদী সরকারের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাত চলেছে। বিগত সরকারের জমানায় ভুয়ো জব কার্ড ও ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বাংলায় এই প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্র। এর বিকল্প হিসেবে রাজ্যে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্প চালু করে বছরে ৫০ থেকে ৭০ দিনের কাজ দেওয়া হচ্ছিল। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই কর্মশ্রীর অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পেরই এক বর্ধিত রূপ কার্যকর হতে চলেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা গ্রামীণ শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে কঠোর নথিপত্র যাচাইয়ের ফলে অতীতে হওয়া ভুয়ো জব কার্ডের রমরমা ও আর্থিক দুর্নীতিতে রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।