যুদ্ধের মেঘেও সুরক্ষিত ভারত, রয়েছে ৭৮ দিনের ব্যাক-আপ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দ্রুত ফর্মুলা!

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই দেশের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র। সোমবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সাফ জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেল বা সারের কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ এবং আপৎকালীন মোকাবিলার জন্য মজুত ভান্ডারও যথেষ্ট মজবুত অবস্থানে রয়েছে।
৭৮ দিনের জ্বালানি ভান্ডার ও হরমূজ সংকটের বিকল্প
পরিবহণ, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রায় দু-ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে বন্দর, জাহাজ চলাচল, বিদেশ, বাণিজ্য এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের শীর্ষ প্রতিনিধিরা বর্তমান পরিস্থিতির একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে ভারতের কাছে ৭৮ দিনেরও বেশি সময়ের প্রয়োজনীয় জ্বালানি বা শক্তি সম্পদের ব্যাক-আপ মজুত রয়েছে। তবে ভারতের চিন্তার বড় কারণ ছিল সার আমদানি, কারণ দেশের মোট আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশই হরমূজ প্রণালী হয়ে আসে। কিন্তু আধিকারিকরা কমিটিকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, আমেরিকা-সহ বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজারগুলির সাথে যোগাযোগ রেখে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে।
যুদ্ধ থামলেই মাত্র ৪-৫ দিনে পরিস্থিতি হবে স্বাভাবিক
বৈঠকে উঠে আসা সবচেয়ে বড় এবং স্বস্তিদায়ক তথ্যটি হলো, সরকারি প্রতিনিধিদের মতে—যদি আজই মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটে, তবে মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ভারতের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। সরকারের এই দাবি থেকে স্পষ্ট যে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারতের কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা এবং সাপ্লাই চেইন অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, যার ফলে আমজনতার ওপর কোনো বড় ধরনের আর্থিক বা পণ্য সংকটের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
এক ঝলকে
- পশ্চিম এশিয়া সংকটের মাঝেই ভারতের কাছে বর্তমানে ৭৮ দিনেরও বেশি সময়ের জ্বালানি তেল ও শক্তির ব্যাক-আপ মজুত রয়েছে।
- হরমূজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সার আমদানির ঘাটতি মেটাতে আমেরিকা-সহ বিকল্প বিশ্ববাজারের সাথে চুক্তি করেছে কেন্দ্র।
- সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করেছেন যে যুদ্ধ থামার মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই দেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।
- বহুমাত্রিক বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারতের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার সুরক্ষিত রয়েছে এবং কোনো ঘাটতির সম্ভাবনা নেই।