পাঞ্জাবে বিজেপি একটা-দুটো আসনে জিতবে, ভবিষ্যৎ বাণী করে চরম  হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের

পাঞ্জাবে বিজেপি একটা-দুটো আসনে জিতবে, ভবিষ্যৎ বাণী করে চরম  হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের

আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে পাঞ্জাবের রাজনীতি। দেশের ২২টি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও, পাঞ্জাবের মাটিতে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্ন এবারও অধরাই থেকে যাবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ নেতা ভগবন্ত মান। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ১১৭ আসনের পাঞ্জাব বিধানসভায় বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস মিলে সর্বোচ্চ ১০টি আসন পেতে পারে। নিজের এই দাবির সপক্ষে চরম আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে মান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি বড়জোর পাঠানকোট অঞ্চলে একটি বা দু’টি আসনে জয়লাভ করবে।

ফলাফল নিয়ে মানের অনড় দাবি

পাঞ্জাবের রাজনৈতিক সমীকরণে আপ-এর অবস্থান যে অত্যন্ত সুদৃঢ়, তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির জয়যাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কারণেই তিনি এই ভবিষ্যৎ বাণী করছেন। গত ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল আম আদমি পার্টি, যেখানে তারা ৯২টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বিপরীতে, একসময়ের শাসক দল কংগ্রেস মাত্র ১৮টি আসনে গুটিয়ে যায় এবং বিজেপি পায় মাত্র ২টি আসন। অতীতের এই পরিসংখ্যান এবং বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই ভগবন্ত মান বিরোধীদের আসন সংখ্যা এক অঙ্কে বেঁধে রাখার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।

ভোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এমন আগ্রাসী মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশল। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি যখন পাঞ্জাবকে নিজেদের ‘পাখির চোখ’ বানিয়ে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই শাসক দল আপ নিজেদের দুর্গ ধরে রাখতে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছে। দিল্লির রাজনীতিতে বিজেপির কাছে আপ ধাক্কা খেলেও, পাঞ্জাবের আঞ্চলিক ও কৃষিজীবী মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আম আদমি পার্টি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একটি বড় অংশের ধারণা, ভোটের ঢের বাকি থাকতে আসন সংখ্যা নিয়ে এমন সুনির্দিষ্ট সংখ্যাতাত্ত্বিক দাবি বাস্তবসম্মত গবেষণার চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণার একটি কৌশল বা ‘গিমিক’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাবের ভোটাররা কার পক্ষে রায় দেবেন, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *