বিশ্বজুড়ে ইবোলা আতঙ্ক: ভারতে বিমানযাত্রীদের জন্য ডিজিসিএ-র কড়া নির্দেশিকা জারি

বিশ্বজুড়ে ইবোলার (Bundibugyo স্ট্রেন) ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাবের জেরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA) দেশের জনস্বার্থ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সমস্ত বিমানসংস্থার জন্য একটি অত্যন্ত কড়া ও বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বা নির্দেশিকা জারি করেছে। কঙ্গো ও উগান্ডার মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়, তার জন্যই এই আগাম সতর্কতা।
মাঝআকাশে বিশেষ ঘোষণা ও সেলফ-ডিক্লারেশন ফর্ম বাধ্যতামূলক
ডিজিসিএ-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কঙ্গো, উগান্ডা বা অন্যান্য ইবোলা প্রভাবিত দেশ থেকে সরাসরি কিংবা ট্রানজিট (অন্য দেশ হয়ে) হয়ে ভারতে আসা সমস্ত যাত্রীদের জন্য ‘সেলফ-ডিক্লারেশন ফর্ম’ (SDF) পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ফর্মে যাত্রীদের তাঁদের ভ্রমণের ইতিহাস, শরীরের কোনো উপসর্গ এবং পূর্ববর্তী কোনো রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা তা বিস্তারিত জানাতে হবে। এছাড়া, মাঝআকাশে বিমানসংস্থাগুলিকে বিশেষ ঘোষণা করতে হবে—যাতে জ্বর, চরম দুর্বলতা, পেশির ব্যথা, মাথা ব্যথা, বমি বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ থাকা যাত্রীরা অবিলম্বে বিমানের ক্রু মেম্বারদের এবং অবতরণের পর বিমানবন্দরে মেডিকেল টিমকে তা জানান।
ইন-ফ্লাইট আইসোলেশন ও কঠোর প্রোটোকল
উড়ান চলাকালীন যদি কোনো যাত্রীর শরীরে ইবোলার লক্ষণ দেখা যায়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানসংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে:
- আলাদা বসার ব্যবস্থা: লক্ষণযুক্ত রোগীকে বিমানের একেবারে পেছনের সারিতে নিয়ে গিয়ে আইসোলেশনে রাখতে হবে। সম্ভব হলে তাঁর চারপাশের এবং সামনের অন্তত ৩টি সারি খালি রাখতে হবে।
- নির্দিষ্ট শৌচাগার ও পিপিই কিট: আক্রান্ত রোগীর জন্য একটি আলাদা শৌচাগার নির্দিষ্ট করতে হবে। বিমানের একজন নির্দিষ্ট ক্রু মেম্বার পিপিই (PPE) কিট পরে ওই রোগীর দেখাশোনা করবেন।
- জীবাণুমুক্তকরণ ও আইসোলেটেড বে: বিমানটি ভারতীয় বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর সেটিকে একটি সম্পূর্ণ আলাদা বা আইসোলেটেড বে-তে পার্ক করতে হবে। প্রথমে সুস্থ যাত্রীরা নামবেন এবং আক্রান্ত রোগী নামবেন সবার শেষে। এরপরই পুরো বিমানটি গভীরভাবে জীবাণুমুক্ত (Disinfection) করা বাধ্যতামূলক।
অবতরণের পর নজরদারি
ডিজিসিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত পৌঁছনোর ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো যাত্রীর শরীরে ইবোলার লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে তাঁকে অবিলম্বে নির্দিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে (APHO) ওই আক্রান্ত যাত্রীর পাশাপাশি তাঁর আশেপাশে বসা সহযাত্রী এবং দেখভাল করা ক্রু মেম্বারের সমস্ত তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে হবে, যাতে তাঁদেরও ২১ দিন কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা যায়। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই দেশের নাগরিকদের কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
এক ঝলকে
- বিশ্বজুড়ে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের জেরে কঙ্গো ও উগান্ডা থেকে ভারতে আসা বিমানযাত্রীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করল ডিজিসিএ।
- প্রভাবিত দেশগুলি থেকে আসা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু মেম্বারদের জন্য ‘সেলফ-ডিক্লারেশন ফর্ম’ পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- মাঝআকাশে লক্ষণযুক্ত রোগী মিললে বিমানের পেছনের সারিতে আইসোলেশন, পিপিই কিট ও আলাদা শৌচাগার বরাদ্দ করতে হবে।
- অবতরণের পর বিমানটিকে আইসোলেটেড বে-তে পার্ক করে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা এবং যাত্রীদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।