১ জুন থেকে বাংলায় ফিরছে একশো দিনের কাজ! নবান্নে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

১ জুন থেকে বাংলায় ফিরছে একশো দিনের কাজ! নবান্নে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে আগামী ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় শুরু হতে চলেছে একশো দিনের কাজের (মনরেগা) প্রকল্প। নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় গতি আসবে এবং কর্মহীন বহু শ্রমিক পরিবার আবার উপার্জনের পথ ফিরে পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিতর্কের ইতিহাস ও বন্ধের কারণ

রাজ্যে এই প্রকল্পটিকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের শেষের দিকে। তৎকালীন রাজ্য সরকারের আমলে এই প্রকল্পের অধীনে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি, লক্ষ লক্ষ ‘ভুয়ো জব কার্ড’ তৈরি এবং কাজের খতিয়ানে বিস্তর কারচুপির অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় সরকার। খরচের সঠিক হিসাব (ইউসিএল) এবং দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়ায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ‘৭ নম্বর ধারা’ প্রয়োগ করে বাংলায় এই প্রকল্পের সমস্ত তহবিল ও বকেয়া টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এই নিয়ে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কেন্দ্রের চরম রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয় এবং দিল্লিতে বড়সড় আন্দোলনও গড়ে তোলা হয়েছিল।

দুটি জেলায় বিশেষ নজরদারির নির্দেশ

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, অতীত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার প্রকল্প রূপায়ণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বর্তমান প্রশাসন। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় অতীতে একশো দিনের কাজে সবচেয়ে বেশি বেআইনি নিয়োগ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। একইসঙ্গে এই দুই জেলা কাজের নিরিখেও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। সেই কারণে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই দুই জেলায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনোভাবেই আগের মতো আর্থিক বেনিয়ম বা ভুয়ো জব কার্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কেন্দ্রীয় বরাদ্দ মিলতেই এই প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্তে গ্রামীণ স্তরে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, জলসংরক্ষণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতি পাবে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া, যাতে গ্রামীণ অভাবী মানুষের কাছে সরাসরি আয়ের উৎস পৌঁছে দেওয়া যায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদকে আবার শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *