মধ্যরাতে এনআইএর ঝোড়ো অভিযান, মোথাবাড়ি-কাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও ১৪ জন!

মধ্যরাতে এনআইএর ঝোড়ো অভিযান, মোথাবাড়ি-কাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও ১৪ জন!

রাজ্যে পালাবদলের পরেই মোথাবাড়ি-কাণ্ডের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। সোমবার গভীর রাতে কালিয়াচক ও মোথাবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় অতর্কিত অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই নিয়ে আলোচিত এই মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৮ জনে। আজ, মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

ঘটনার সূত্রপাত ও বিচারকদের হেনস্তা

রাজ্যে এসআইআর (SIR) পর্ব চলাকালীন মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বিডিও অফিসের ভেতরে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে এসআইআরের কাজে যাওয়া সাতজন বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। ধৃতদের মধ্যে একজন মহিলা বিচারকও ছিলেন। মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পান তাঁরা। এই নজিরবিহীন ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করে শুরু হয় তল্লাশি।

তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এর আগে এই ঘটনায় মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদেরি এবং মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামসহ ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ ও সিআইডি। তদন্তভার নেওয়ার পর এনআইএ গ্রেপ্তার করে আইএসএফ নেতা গোলাম রাব্বানিকে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতদের জেরা করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই সোমবার রাতের অভিযানে এই ১৪ জনের সন্ধান মেলে। বিচারকদের হেনস্তার ঘটনায় ধৃতদের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই ধরপাকড়ের ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই কঠোর পদক্ষেপের কারণে মোথাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া এই ১৪ জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী চক্রের সন্ধান পেতে চাইছে এনআইএ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *