রাতারাতি সীমান্তে ‘উল্টো স্রোত’! ভয়ে বাংলাদেশমুখী অনুপ্রবেশকারীরা

রাতারাতি সীমান্তে ‘উল্টো স্রোত’! ভয়ে বাংলাদেশমুখী অনুপ্রবেশকারীরা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত সীমান্ত এলাকা। অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের দ্রুত চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাতে রাজ্য সরকারের নেওয়া ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ বা থ্রি-ডি নীতির জেরেই এবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সীমান্তে বাংলাদেশিদের ফিরে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। এর আগে রাজ্য জুড়ে বিশেষ সমীক্ষা বা এসআইআর (SIR) চলাকালীন এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। এবার প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়তেই বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের হাকিমপুর চেকপোস্টে ফের ভিড় জমিয়েছেন বহু সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।

প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও ‘থ্রি-ডি’ নীতি

দিন দুই আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলায় জেলায় নোটিস পাঠিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি লাগু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে বিথারী হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বহু মহিলা, পুরুষ ও যুবককে ছোট ছোট ব্যাগ হাতে সীমান্তের কাছে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এদের অনেকেই স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা এক থেকে দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে এ রাজ্যে এসেছিলেন। নির্মাণ শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির সহকারী কিংবা মাছের ভেড়িতে দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত থাকা এই ব্যক্তিরা মূলত প্রশাসনিক অভিযানের ভয়েই এখন স্বদেশে ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

অনুপ্রবেশকারীদের এই আকস্মিক পলায়নের প্রধান কারণ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুলিশ ও প্রশাসনের লাগামছাড়া সক্রিয়তা। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি, পরিচয়পত্র যাচাই এবং সন্দেহভাজনদের ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে দালালচক্রের ওপর বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। সীমান্ত আধিকারিকরা সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু না জানালেও, নজরদারি যে বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে তা স্বীকার করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে একদিকে যেমন সীমান্তে অবৈধ পারাপার এবং চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে, তেমনই রাজ্যের বিভিন্ন শ্রমনির্ভর ক্ষেত্রে অবৈধ শ্রমিকদের দাপট কমবে। তবে আচমকা এই ধরপাকড় ও প্রত্যাবর্তনের জেরে সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলগুলোতে সাময়িক উত্তেজনা ও বাড়তি পুলিশি তৎপরতা বজায় থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *