স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে আলাদা হচ্ছে আয়ুষ, বৈদিক চিকিৎসায় জোর দিতে জুনেই বড় ধামাকা মুখ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে আলাদা হচ্ছে আয়ুষ, বৈদিক চিকিৎসায় জোর দিতে জুনেই বড় ধামাকা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামোয় এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার আর স্বাস্থ্যদপ্তরের অধীনে নয়, সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে পথ চলতে চলেছে ‘আয়ুষ’ (আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি)। বৈদিক ও প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং একে আমজনতার আরও কাছে পৌঁছে দিতেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী জুন মাস থেকেই এই নতুন রূপরেখা বাস্তবায়নে একগুচ্ছ কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

স্বতন্ত্র রূপরেখা ও প্রশাসনিক রদবদল

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মূল স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গেই যুক্ত ছিল আয়ুষ বিভাগ। তবে এবার বৈদিক চিকিৎসাকে মূল ধারার চিকিৎসার সমকক্ষ করে তুলতে একে সম্পূর্ণ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কাজের গতি বাড়াতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে এই নতুন দপ্তরের দায়িত্বে বসানো হচ্ছে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ আমলাকে। কেন্দ্রের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে আয়ুষের কর্মপরিধি আরও বিস্তার করাই এই স্বতন্ত্রকরণের মূল লক্ষ্য।

কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে ভেষজ ও বৈদিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি সাধারণ মানুষের ভরসা ও চাহিদা দুই-ই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। কেন্দ্র সরকারও জাতীয় স্তরে আয়ুষের উন্নয়নে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র-প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ও অনুদানকে সরাসরি মানুষের স্বার্থে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবহার করতেই এই বিভাজনের সিদ্ধান্ত।

আয়ুষ সম্পূর্ণ আলাদা দপ্তর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় রাজ্যে ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকরণ, গবেষণা এবং বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামোয় জোয়ার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, জুনে ঘোষিত হতে চলা মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে জেলা ও গ্রামীণ স্তরেও বৈদিক চিকিৎসা পরিষেবা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে যাবে, যা সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *