তীব্র গরমে পচন থেকে সবজি বাঁচানোর জাদুটোটকা, মুশকিল আসান করল এফএসএসএআই

চলতি তীব্র দাবদাহ ও গুমোট আর্দ্রতায় সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। তবে এই আবহাওয়ায় কেবল মানুষেরই নাভিশ্বাস উঠছে না, রান্নাঘরের আনাজপাতির ঝুড়ির দিকে তাকালেও কপালে ভাঁজ পড়ছে মধ্যবিত্তের। সকালে বাজার থেকে কিনে আনা টাটকা পটল, ঝিঙে কিংবা কাঁচালঙ্কা বিকেলের মধ্যেই শুকিয়ে কালচে হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের সুযোগ নিয়ে ব্যাকটিরিয়া ও ছত্রাকের আক্রমণে দ্রুত পচন ধরছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিতে। এতে পকেটের রেস্ত খসিয়ে বাজার করার পর বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ গৃহস্থ। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে আমজনতার মুশকিল আসান করতে এবং সবজি তাজা রাখার সঠিক উপায় বাতলাতে ময়দানে নেমেছে ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (FSSAI)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তীব্র গরমে আনাজপাতি সতেজ রাখার তিনটি মোক্ষম দাওয়াই দেওয়া হয়েছে।
ধোয়ার পর শুকিয়ে নেওয়া জরুরি
অনেকেরই অভ্যাস থাকে বাজার থেকে সবজি এনেই ধুয়ে সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ভুলটি করা একদমই উচিত নয়। সবজির গায়ে লেগে থাকা জলই মূলত দ্রুত পচন ধরানোর প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তাই বাজার থেকে আনাজ আনার পর প্রথমে তা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর জল ঝরিয়ে ফ্যানের বাতাসে পুরোপুরি শুকিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে মুছে তবেই তা সংরক্ষণ করা শ্রেয়।
কাগজের সঠিক ব্যবহার ও প্লাস্টিক বর্জন
শাক বা ধনেপাতার মতো নরম জিনিস দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে পেপার তোয়ালে বা ব্লটিং পেপার দারুণ কার্যকর। এটি সবজির বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নিয়ে পচন রোধ করে। তবে এই কাজে খবরের কাগজ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ খবরের কাগজের রাসায়নিক কালি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। পাশাপাশি, প্লাস্টিকের প্যাকেটে সবজি রাখা বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিকের ভেতরে বাতাস চলাচল করতে না পারায় সবজির নিজস্ব বাষ্প ভেতরেই জল জমিয়ে দেয়, যা দ্রুত পচন ঘটায়। এর পরিবর্তে নেট বা জালের ব্যাগ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যাতে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং আনাজপাতি দীর্ঘক্ষণ চনমনে থাকে।