সকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘোষণা, দল ও পদ ছাড়লেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর সাগর কুণ্ডু

অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের গড় হিসেবে পরিচিত বীরভূম জেলায় ফের ধাক্কা খেল শাসক শিবির। এবার প্রকাশ্যেই দল এবং কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন দুবরাজপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি সাগর কুণ্ডু। মঙ্গলবার সাতসকালে নিজের ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি বাসিন্দাদের জানিয়ে দেন, “আমি এখন থেকে আপনাদের প্রাক্তন পুরপিতা।” রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে যখন একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগের জেরে একাধিক পুর-প্রশাসন কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো বীরভূমের এই দাপুটে যুবনেতার নাম।
চোখের জলে ইস্তফা ও রাজনৈতিক জল্পনা
কাউন্সিলর পদের পাশাপাশি শহর যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন সাগর কুণ্ডু। এদিন নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। চোখে জল নিয়ে রুদ্ধ কণ্ঠে তিনি জানান, অত্যন্ত কঠিন হলেও এই সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতেই হয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেও এখনই রাজনীতি ছাড়ছেন না বলে স্পষ্ট করেছেন সাগর। তিনি দাবি করেছেন, কোনো পদে না থাকলেও সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের জেরেই কি তাঁর এই সিদ্ধান্ত, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও গণতান্ত্রিক উপায়ে মানুষের রায়কে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দুর্নীতি প্রসঙ্গ ও বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া
সাগর কুণ্ডুর এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক অনুপকুমার সাহা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে ইস্তফাপত্র জমা না পড়া পর্যন্ত তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, পুরসভায় প্রত্যেক কাউন্সিলরের কাজের খতিয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো রকম দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র খোঁচা দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে এবং ডুবন্ত নৌকা থেকে বাঁচতেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিদায়ী কাউন্সিলর। এই ভাঙন আগামী দিনে বীরভূমের পুর-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।