অনুপ্রবেশকারীদের ধরে রাখা নয়, সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে সরব সজল ঘোষ

মালদহের পর এবার মুর্শিদাবাদের লালগোলা। রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আটকে রাখার জন্য জেলাভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর প্রক্রিয়া ব্যাপক গতি পেয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশের পর একে একে সীমান্ত জেলাগুলিতে এই বিশেষ শিবিরগুলি পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। আর এই হোল্ডিং সেন্টার চালুর পরই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। অবৈধভাবে এ দেশে থাকা নাগরিকদের আটকে না রেখে সরাসরি স্বদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
জেলায় জেলায় তৎপরতা ও পরিকাঠামো গঠন
আটক বিদেশি নাগরিক কিংবা প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় থাকা মুক্ত কয়েদিদের রাখার জন্য জেলাভিত্তিক বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র দফতর। এর পরেই নজিরবিহীন তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মালদহের ইংরেজবাজারে প্রথম হোল্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়। পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি হওয়া চার তলার অব্যবহৃত ‘কর্মতীর্থ’ ভবনটিকে সংস্কার করে এই সেন্টার বানানো হয়েছে। সুরক্ষার স্বার্থে পুরো ভবনটিকে সিসিটিভি নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে ১২ জন পুলিশকর্মী, ৩ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও ৩ জন সিভিক ভলান্টিয়ার।
মালদহের পর এবার এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে মুর্শিদাবাদও। লালগোলার বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত সংলগ্ন ‘পদ্মা ভবন’-এর তিন তলায় নতুন এই সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, লালগোলার এই শিবিরে ইতিমধ্যেই ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গত রবিবার রাতে মালদহের গাজোল থানার পাণ্ডুয়া এলাকা থেকে বৈধ নথিহীন ৩ জন মহিলা ও ৬ জন নাবালক-নাবালিকা-সহ মোট ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে ইংরেজবাজারের সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
আটকে না রেখে ফেরতের দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই হোল্ডিং সেন্টার নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের আটকে রাখার নীতির বিরোধিতা করে তিনি স্পষ্ট জানান, অবৈধভাবে এ দেশে থাকা নাগরিকদের হাতে ফুল, মিষ্টি আর ছাতা দিয়ে সসম্মানে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁর প্রশ্ন, যে দেশের কেউ বাসিন্দা নন, সেখানে তাঁকে কেন রাখা হবে? নিজের বাড়িতেও কেউ বাইরের লোককে রাখে না। তাই অন্য দেশের লোক যখন ফিরে যেতেই চান, তখন তাঁদের জোর করে আটকে না রেখে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়াই শ্রেয়।
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই অনুপ্রবেশ রুখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। শুধু হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করাই নয়, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র দফতরের এই কড়া নির্দেশের ফলে সীমান্ত জেলাগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের কাজ যেমন গতি পেয়েছে, তেমনই অন্যদিকে এই আটকদের ভবিষ্যৎ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।