কসবা ও তপসিয়ায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস, হাই কোর্টের দ্বারস্থ ১০০ বাসিন্দা

কলকাতার কসবা এবং তপসিয়া এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার জন্য পুরসভার দেওয়া নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চারটি বাড়ির প্রায় ১০০ জন বাসিন্দা এই নোটিসের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মামলা দায়েরের আবেদন জানান। মঙ্গলবার মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিচারপতি পার্থসারথি সেন মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন। আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, এর মধ্যে একটি বাড়ি ১৯৯২ সাল থেকে রয়েছে, অথচ সেটিও ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার জোড়া নোটিস ও উচ্ছেদ অভিযান
সম্প্রতি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুরসভা। শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-র ৪০০(১) ধারায় তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটার মতো এলাকায় নোটিস পাঠানো শুরু করে পুর কর্তৃপক্ষ। এই ধারায় প্ল্যান-বহির্ভূত অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে পুর কমিশনারের। সেই নিয়ম মেনেই গত রবিবার থেকে শহরের তিন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করে পুরসভা।
রাজনৈতিক যোগসূত্র ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্ল্যানকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোথাও পাঁচতলা, কোথাও ছ’তলা আবার কোথাও দুই ব্লকের বহুতল গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, যে তিনটি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ চলছে, সেগুলির প্রত্যেকটির সঙ্গেই কোনো না কোনো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার যোগসূত্র রয়েছে। বেলেঘাটার নির্মাণের সঙ্গে এক তৃণমূল নেতার নাম জড়িয়েছে এবং বাকি দুই জায়গায় স্থানীয় কাউন্সিলর বা বরো চেয়ারম্যানের মদত ছিল বলে অভিযোগ। যদিও অভিযুক্তরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
পুর কর্তৃপক্ষের সাফ বক্তব্য, যা বেআইনি তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইনি নিয়ম মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে হাই কোর্ট এই মামলায় হস্তক্ষেপ করায় আগামী শুক্রবারের শুনানির ওপরই নির্ভর করছে পুরসভার এই অভিযানের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করেই স্পষ্ট হবে যে, কসবা ও তপসিয়ার বিতর্কিত বহুতলগুলি শেষ পর্যন্ত ভাঙা পড়বে নাকি বাসিন্দারা আইনি স্বস্তি পাবেন।