নম্বরের চাপেই কাঁপছে কিশোর হৃদয়! ১৪০ ব্লাড প্রেশারে চিন্তায় চিকিৎসকরা

একসময় উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে কেবল প্রবীণদের রোগ বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পরীক্ষার ভালো ফল এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ার ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়ে অনেক কিশোর-কিশোরীর রক্তচাপ ১৪০ ছুঁয়ে ফেলছে। অল্প বয়সেই হৃদযন্ত্রের নানা গোলযোগের এই নতুন ট্রেন্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপনেই লুকিয়ে রয়েছে এই নীরব বিপদের মূল কারণ।
সাফল্যের অদৃশ্য চাপ ও শারীরিক বিপর্যয়
বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিয়ত ভালো নম্বর, র্যাঙ্ক, জয়েন্ট-নিটের প্রস্তুতি এবং কোচিংয়ের পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই অবিরাম সাফল্যের চাপ তাদের জীবন থেকে কেড়ে নিচ্ছে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, খেলাধুলা ও মানসিক স্বস্তি। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে রক্তনালীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে এবং হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধির পাশাপাশি রক্তচাপও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। মেধার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার এই চেষ্টা বাইরে থেকে সফল মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে তা হৃদস্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।
ঘুমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের যুগলবন্দি
কৈশোরে প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হলেও, বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা কিংবা মোবাইল স্ক্রিনের ব্যবহারের কারণে সিংহভাগ পড়ুয়াই তীব্র অনিদ্রায় ভুগছে। এই দীর্ঘদিনের অনিদ্রা সরাসরি উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি পরীক্ষার সময়ে জেগে থাকার জন্য অতিরিক্ত কফি, এনার্জি ড্রিংক, চকোলেট ও প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুডের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও চিনি সাময়িক শক্তি জোগালেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরে রক্তচাপ ও চরম উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে, যা মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রভাব
চিকিৎসকদের মতে, এখনই এই জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না আনলে আগামী দিনে এই তরুণ প্রজন্ম খুব অল্প বয়সেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং স্থূলতার মতো গুরুতর ক্রনিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। কেবল ‘ভালো ছাত্র’ হওয়ার তাড়নায় শরীরচর্চা ও সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিশোররা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয় পক্ষকেই এখন পড়ুয়াদের নম্বরের পাশাপাশি তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে সমান নজর দিতে হবে। সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক মানসিক জীবন ছাড়া কোনো সাফল্যই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।