পরকীয়া প্রেমের নৃশংস পরিণতি, স্বামীকে ইলেকট্রিক শক ও বিষ খাইয়ে হত্যা করলেন স্ত্রী

পরকীয়া প্রেমের নৃশংস পরিণতি, স্বামীকে ইলেকট্রিক শক ও বিষ খাইয়ে হত্যা করলেন স্ত্রী

উত্তরপ্রদেশে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের স্বামীকে ‘পথের কাঁটা’ সরানোর জন্য চব্বিশ বছর বয়সী এক গৃহবধূ তাঁর প্রেমিক তথা ভাইপো এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশ ইতিমিধ্যেই মূল অভিযুক্ত স্ত্রী, তাঁর ভাইপোসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। যেভাবে পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তা দেখে খোদ তদন্তকারীরাও হতবাক হয়ে গেছেন।

পরিকল্পিত অপরাধ ও নৃশংসতা

তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম পবন। বছর ছয়েক আগে আঁচল নামের ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের একটি তিন বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই আঁচলের সঙ্গে তাঁর ২১ বছর বয়সী ভাইপো অঙ্কিতের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের কারণেই পবনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করা হয়। এই ষড়যন্ত্রে আঁচল তাঁর আঠারো বছর বয়সী বোন শিখা এবং শিখার প্রেমিক অজয়কেও শামিল করেন। খুনের চারদিন আগে থেকেই শিখা দিদির বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন, যাতে সুযোগ বুঝে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়।

প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার দিন পবনকে জোরপূর্বক বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এরপর অভিযুক্তরা তাঁকে একটি চেয়ারে বেঁধে ফেলে এবং নির্মমভাবে ইলেকট্রিক শক দেয়। ইলেকট্রিক শকের চোটে পবন অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে বিষ খাইয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে এবং প্রমাণ লোপাট করতে পবনের দেহটি সিঁড়ি থেকে নিচে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। পরে প্রতিবেশীদের জানানো হলেও পবনের পরিবারের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে চারজনকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *