সিবিএসই-র ভুলে খাতা বদল, অধিকারের লড়াইয়েও পড়ুয়াকে ‘পাকিস্তানি’ তকমা নেটপাড়ার

সিবিএসই-র ভুলে খাতা বদল, অধিকারের লড়াইয়েও পড়ুয়াকে ‘পাকিস্তানি’ তকমা নেটপাড়ার

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষায় খাতা বদলের এক নজিরবিহীন ও গুরুতর গাফিলতির ঘটনা সামনে এসেছে। নিজের আসল উত্তরপত্র ফিরে পাওয়ার দাবিতে সরব হয়ে খোদ বোর্ডের কাছেই ভুল প্রমাণ করেছে ১৭ বছরের এক পড়ুয়া। তবে এই চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ খুলেই এক অদ্ভুত ও বিষাক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। নিজের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে নেটপাড়ার একাংশের কাছে তাকে পেতে হয়েছে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘পাকিস্তানি’ তকমা। তবে শেষ পর্যন্ত বোর্ড নিজের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

খাতা বদলের গুরুতর গাফিলতি

গত ১৩ মে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশের পর এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে ওই পড়ুয়া দেখে যে পদার্থবিদ্যায় সে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম নম্বর পেয়েছে। সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করার পর এমন ফল দেখে সে বোর্ডের কাছে নিজের উত্তরপত্রটি দেখতে চায়। কিন্তু বোর্ডের পাঠানো খাতাটি হাতে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তার। হাতের লেখা দেখেই সে নিশ্চিত হয় যে, ওই খাতাটি আদতে তার নয়। নিজের আসল খাতা হারানোর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। সর্বভারতীয় একটি বোর্ডের এমন চরম অব্যবস্থা ও ‘দুর্নীতি’ নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।

ট্রোলিং এবং রাজনৈতিক তরজা

বোর্ডের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বেদান্তকে তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়। সাইবার দুনিয়ার একাংশ তাকে কোনো কারণ ছাড়াই ‘দেশবিরোধী’ বলে আক্রমণ করতে শুরু করে। তবে এই ঘটনায় বেদান্তর পাশে দাঁড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন যে, গত কয়েক দশকে সিবিএসই পরীক্ষা নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠেনি। ১৭ বছরের একটি ছেলে নিজের নম্বর নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রাজনৈতিক স্বার্থে তাকে দেশবিরোধী তকমা দেওয়া হচ্ছে।

বোর্ডের ভুল স্বীকার ও সম্ভাব্য প্রভাব

দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়ে এই মারাত্মক ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন যে, পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইমেলের মাধ্যমে তার সঠিক উত্তরপত্রটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত তার নম্বর পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এই ঘটনাটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং সিবিএসই-র মতো একটি দায়িত্বশীল বোর্ডের খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বোর্ডের এই ধরণের প্রযুক্তিগত বা মানবিক ভুলের কারণে আগামীদিনে লক্ষাধিক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে, গঠনমূলক সমালোচনার জবাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরণের সাইবার হেনস্থা সমাজ ও সাইবার সংস্কৃতির এক বিপজ্জনক দিক উন্মোচন করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *