একসময় ড্রাগে ডুবে ছিলেন, এবার ‘নেশামুক্ত’ হানি সিংয়ের হাতে বিজেপির বড় দায়িত্ব

পাঞ্জাবের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে এবার এক অভিনব কৌশল নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এবং পরবর্তীতে মাদকাসক্তিতে ডুবে যাওয়া খ্যাতনামা ব়্যাপার ইয়ো ইয়ো হানি সিংকে রাজ্যের মাদকবিরোধী প্রচারণায় বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজের জীবনসংগ্রাম দিয়ে অন্ধকার জগত থেকে ফিরে আসা এই শিল্পীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পকেই এখন পাঞ্জাবের যুবসমাজের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
মঙ্গলবার পাঞ্জাব বিজেপির নেতা তরুণ চুঘের সঙ্গে ব়্যাপার হানি সিং ওরফে হৃদেশ সিংয়ের একটি বৈঠক হয়। সেখানে রাজ্যের মাদক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে মাদকের নেশায় নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন প্রায় ধ্বংস করে ফেলা হানি সিং এবার নিজেই পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার লড়াইয়ে শামিল হচ্ছেন।
নেশামুক্তির জ্যান্ত উদাহরণ যখন প্রচারের মুখ
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, হানি সিংয়ের মতো একজন তারকা, যিনি নিজেই দীর্ঘ আট বছর একপ্রকার প্রায়শ্চিত্ত করে মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁর চেয়ে উপযুক্ত মুখ এই প্রচারের জন্য আর কেউ হতে পারে না। তরুণ সমাজকে মাদকের চোরাস্রোত থেকে টেনে বের করতে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখবে। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা তরুণ চুঘ জানান, মাদকের সুনামি যেভাবে পাঞ্জাবের তরুণ সমাজকে গিলে খাচ্ছে, তা থেকে বাঁচতে হানির এই লড়াই এক দারুণ উদাহরণ। হানি সিং যদি এই জাল থেকে বেরিয়ে আবার সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেন, তবে পাঞ্জাবের প্রতিটি সন্তানই তা পারবে।
এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়ে হানি সিং জানান, পাঞ্জাব এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাদকের কারণে অসংখ্য পরিবার ধ্বংসের মুখে। তাই এই বিপদ থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে তিনি বদ্ধপরিকর।
অতীতের অন্ধকার ভুলে নতুন দিগন্তের আশা
একসময়ে বলিউডের শীর্ষস্থানে থাকা এই ব়্যাপার অতীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে, সাফল্যের জোয়ারে ভেসে কুসঙ্গে জড়িয়ে তিনি মাদকের চরম আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। সকালের ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত মাদকই ছিল তাঁর সঙ্গী। যার কারণে বাবা-মা থেকে শুরু করে তৎকালীন স্ত্রী শালিনী তলওয়ারের সঙ্গেও তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হানি সিংকে এই প্রচারের অগ্রভাগে আনার ফলে পাঞ্জাবের যুবসমাজের ওপর একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়তে পারে। একজন জনপ্রিয় আইকন যখন নিজের ভুল স্বীকার করে তরুণদের ‘শুকনো মাদক’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাবেন, তখন তা সাধারণ প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। মূলত এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই পাঞ্জাবের ঘরে ঘরে মাদকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে বিজেপি।