কাকলি-সুখেন্দুর পর এবার শান্তনু! ‘উত্তরবঙ্গ লবি’ নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন TMC সাংসদ, দরাজ প্রশংসা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলটিতে ভাঙন ও ‘বেসুরো’ হওয়ার তালিকায় যুক্ত হলো আরও এক হেভিওয়েট নাম। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগদান এবং সুখেন্দুশেখর রায়ের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের পর, এবার সমাজমাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ ডা: শান্তনু সেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ‘উত্তরবঙ্গ লবি’ ও আরজি করের দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর গলায়।
‘উত্তরবঙ্গ লবি’ ও আরজি করের দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক শান্তনু
ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (IMA) বর্তমান রাজ্য সম্পাদক ডা: শান্তনু সেন ২৫ মে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন, যেখানে আরজি কর কাণ্ডের অভীক দে, তৎকালীন ডিরেক্টর অব মেডিক্যাল এডুকেশন ডা: কৌস্তভ নায়েক, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৃণমূলেরই আর এক চিকিৎসক নেতা ডা: সুদীপ্ত রায়ের কঠোর সমালোচনা করেন। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি স্পষ্ট জানান:
- দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় শাস্তি: আরজি করের তৎকালীন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ এবং সুদীপ্ত রায়ের যৌথ নেতৃত্বে হওয়া ভূরি ভূরি দুর্নীতির কথা তিনি কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছিলেন। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে উল্টে তাঁকে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
- পরিবারের ওপর মানসিক নির্যাতন: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁকে তো বটেই, এমনকি ওই হাসপাতালেরই পড়ুয়া তাঁর মেয়েকেও দিনের পর দিন মর্মান্তিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
- ঘুঘুর বাসা ভাঙার ডাক: ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল, রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে তথাকথিত ‘উত্তরবঙ্গ লবি’ যে দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা তৈরি করেছিল, তার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ জারি থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দরাজ সার্টিফিকেট
বিগত ২৩ মে থেকে লাগাতার নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে পোস্ট করছেন শান্তনু সেন। নতুন সরকারের প্রশংসা করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, একজন চিকিৎসক আন্দোলনের যোদ্ধা হিসেবে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নকে তিনি সাধুবাদ জানাবেনই। শুভেন্দু সরকারের যে সিদ্ধান্তগুলিকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন:
- বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা চালু করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া।
- রাজ্যের বাকি থাকা ৪টি জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা।
- রাজ্যে আরও ৪৬৯টি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র তৈরি এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের শূন্যপদগুলিতে দ্রুত নিয়োগ করা।
- আরজি কর কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ‘উত্তরবঙ্গ লবি’র সকলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি আশ্বাস।
দলে থাকা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা
দলবিরোধী এই অবস্থানের পরও তিনি তৃণমূলে আছেন কি না— এই প্রশ্নের উত্তরে শান্তনু সেন বেশ রহস্য বজায় রাখেন। তিনি বলেন, “আমি একজন চিকিৎসক। চিকিৎসা আমার পেশা এবং অবশ্যই আমি একজন রাজনৈতিক মানুষ, রাজনীতি আমার নেশা। আমি জীবনে যতদিন সুস্থ-সবল থাকব, আমি আমার পেশাও ছাড়ব না, আমি আমার নেশাও ছাড়ব না।” অভয়ার বিচারের দাবিতে তিনি আগের মতোই অনড় রয়েছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন এই প্রবীণ নেতা।
এক ঝলকে
- কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুখেন্দুশেখর রায়ের পর এবার প্রকাশ্যেই ‘বেসুরো’ তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা ডা: শান্তনু সেন।
- আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ ও চিকিৎসক নেতা সুদীপ্ত রায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তিনি।
- স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘উত্তরবঙ্গ লবি’র তৈরি করা দুর্নীতির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ।
- আয়ুষ্মান ভারত চালু ও নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ার উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরাজ প্রশংসা শান্তনুর।