রাজনীতিতে ‘নো এন্ট্রি’ সৌরভের, ইডেনের ব্যর্থতা নিয়ে বিস্ফোরক মহারাজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক মহলে যখন জোর গুঞ্জন, তখনই এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা সিএবি-র অন্যতম শীর্ষ কর্তা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা চললেও, সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে মহারাজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতি করার কোনো ইচ্ছাই তাঁর কোনোদিন ছিল না এবং ভবিষ্যতেও নেই। অন্যদিকে, যুবভারতীতে মেসিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন তিনি।
রাজনীতি আমার জন্য নয়
একটা সময় রাজ্যবাসীর বড় অংশই মনে করেছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হয়তো রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই বিষয়ে সৌরভের স্পষ্ট জবাব, তিনি কোনোদিন এই বাসে ওঠার চেষ্টাই করেননি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছা জানালেও রাজনীতিকে নিজের ‘কাপ অফ টি’ মনে করেন না তিনি। দিলীপ ঘোষ কিংবা বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আইপিএলের ম্যাচ দেখার আমন্ত্রণ জানানোকে তিনি কেবলই প্রশাসনিক ‘প্রোটোকল’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিরোধীদের সমস্ত রাজনৈতিক খোঁচাকে গুরুত্ব না দিয়ে শালবনীর কারখানার কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলে জানান তিনি।
মেসি-কাণ্ড ও কলকাতার মুখ পুড়ছে যেখানে
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে কেন্দ্র করে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ সৌরভ। তাঁর মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই কলকাতার মুখ পুড়েছে। ইডেনে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বা বিশ্বকাপের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচও কোনো ঝামেলা ছাড়াই আয়োজন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কোভিড পরিস্থিতিতে কঠোর সুরক্ষাবিধির মধ্যে সফলভাবে আইপিএল আয়োজন করার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সঠিক পরিকল্পনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাই যুবভারতীর ব্যর্থতার মূল কারণ। ইডেনে এই অনুষ্ঠান হলে এমন বিপর্যয় ঘটত না বলে দাবি তাঁর। এমনকি মাঠের বিশৃঙ্খলার কারণে বলিউড বাদশা শাহরুখ খানও সেদিন ঢুকতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিএবি-র বিতর্ক ও ইডেনের ভবিষ্যৎ
বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হারবার ডায়মন্ডস’-এর মালিকানার আর্থিক বিতর্ক ও ইডি-র হস্তক্ষেপের বিষয়ে সৌরভ জানান, অভিযুক্ত সংস্থাকে ইতিপূর্বেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ভেন্ডর নিয়োগ টেন্ডারের মাধ্যমেই করা হচ্ছে। সিএবি-র কর্মকর্তাদের বয়স ও স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত বিতর্কের আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে সৌরভ জানান, বোর্ডের সমস্ত নিয়ম মেনেই কাজ চলছে। একই সঙ্গে ইডেন গার্ডেন্সের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর দিয়ে তিনি জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনীর লিজের মেয়াদ বাড়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেই ইডেনের সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং এর আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫ হাজার করা হবে। আপাতত রাজনীতি থেকে দূরে থেকে টেলিভিশন শো এবং ক্রিকেটের প্রজেক্ট নিয়েই এগোতে চান মহারাজ।