৫ মিলিমিটার এদিক-ওদিক হলেই বিপর্যয়, বিশ্বকাপের সবুজ গালিচা তৈরিতে রাত জাগছেন বিজ্ঞানীরা

৫ মিলিমিটার এদিক-ওদিক হলেই বিপর্যয়, বিশ্বকাপের সবুজ গালিচা তৈরিতে রাত জাগছেন বিজ্ঞানীরা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন বিশ্বজুড়ে টানটান উত্তেজনা। তবে মাঠের খেলায় বল গড়ানোর আগেই নেপথ্যে শুরু হয়েছে এক মহাযজ্ঞ। এবার ফুটবলারদের পায়ের জাদুকে নিখুঁত রাখতে রাত জেগে কাজ করছেন একদল বিজ্ঞানী। মাঠের ঘাসের উচ্চতায় মাত্র পাঁচ মিলিমিটারের এদিক-ওদিক হলেই বদলে যেতে পারে পুরো খেলার গতিপথ, ঘটতে পারে বড় বিপর্যয়। তাই আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলোর সবুজ গালিচা তৈরিতে গত আট বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন গবেষকরা।

কৃত্রিম আলো ও তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জ

এবারের বিশ্বকাপের আসর বসছে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে, যার ফলে প্রতিটি স্টেডিয়ামের আবহাওয়া এবং পরিকাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা। বিশেষ করে আমেরিকার পুরোপুরি ঢাকা ডোম স্টেডিয়ামগুলো নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেখানে প্রাকৃতিক সূর্যের আলো না পৌঁছানোয় ঘাস সজীব রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মেটাতে গবেষকরা ১৭০টিরও বেশি পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফুটবল মেশিন দিয়ে বল ছোড়া থেকে শুরু করে লোহার যন্ত্র দিয়ে বুটের মতো চাপ তৈরি করে মাঠের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা হয়েছে। ঘাসকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশাল এলইডি গ্রো লাইট, যার বেগুনি আলোয় সজীব থাকবে মাঠ। এছাড়া আবহাওয়াভেদে গরম এলাকায় ‘বারমুডা ঘাস’ এবং শীতল অঞ্চলে ‘কেন্টাকি ব্লুগ্রাস ও রাইগ্রাসের মিশ্রণ’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিপর্যয় এড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রভাব

খেলার মাঠের মান সামান্য খারাপ হলে তা শুধু ফুটবলারদের ছন্দই নষ্ট করে না, বরং বড় ধরনের চোটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিগত ২০২৪ কোপা আমেরিকায় সাময়িকভাবে বসানো ঘাসের মাঠে বল অদ্ভুতভাবে লাফানোর কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল আয়োজকদের। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ফিফা এই গবেষণার পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। মাঠের ঘাসকে শক্তিশালী করতে কৃত্রিম তন্তু মেশানো হচ্ছে। কলোরাডোর বিশেষ টার্ফ কো ম্পা নিগুলো থেকে রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে করে স্টেডিয়ামে ঘাস পাঠানো হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কোটি কোটি ডলারের ফুটবলারদের ক্যারিয়ার সুরক্ষিত রাখতে এবং গতিশীল ফুটবল উপহার দিতে মাঠের নিচের এই ‘অদৃশ্য’ প্রস্তুতিই এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *