মোথাবাড়িকাণ্ডে ধৃত ১৫ জনের জেল হেফাজতের আর্জি এনআইএ-র, রায় স্থগিত রাখল আদালত

মোথাবাড়িকাণ্ডে ধৃত ১৫ জনের জেল হেফাজতের আর্জি এনআইএ-র, রায় স্থগিত রাখল আদালত

মালদহের মোথাবাড়িতে নির্বাচন ডিউটিতে থাকা বিচারকদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরির ঘটনায় ধৃত ১৫ জনকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। মঙ্গলবার কলকাতার বিচার ভবনের বিশেষ এনআইএ আদালতে এই ১৫ জন অভিযুক্তকে হাজির করা হয়। সেখানে এনআইএ-র পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী শ্যামল ঘোষ এই হেফাজতের আর্জি জানান এবং ঘটনার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তবে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত এই মামলার রায় দান আপাতত স্থগিত রেখেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিতকরণ এবং আদালতের সওয়াল

আদালতে শুনানির সময় এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, ধৃত ১৫ জনই ঘটনার দিন সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। তিনি আদালতকে বলেন, “তদন্তের স্বার্থে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে এবং অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেই এই গ্রেফতারি চালানো হয়েছে।” ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই ধৃতদের জেল হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে দাবি করা হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

গত এপ্রিল মাসে মালদার মোথাবাড়ি ব্লকে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে ক্ষুব্ধ জনতা পথ অবরোধ করে এবং বেশ কয়েকজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারি এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। সোমবার মালদা জুড়ে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে এই ১৫ জনকে গ্রেফতার করার পর এদিন আদালতে তোলা হয়। আদালত রায় স্থগিত রাখায় ধৃতদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এখন আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে।

এক ঝলকে

  • মোথাবাড়িকাণ্ডে ধৃত ১৫ জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাল এনআইএ।
  • মঙ্গলবার কলকাতার বিচার ভবনের বিশেষ এনআইএ আদালতে অভিযুক্তদের হাজির করা হয়।
  • এনআইএ-র আইনজীবী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার পরই এই ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
  • দুপক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিশেষ আদালত এই মামলার রায় দান আপাতত স্থগিত রেখেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *