বার্নপুরে সেলের জমি উদ্ধারে অনড় প্রশাসন, তৃণমূলের পর এবার ভাঙা পড়ল সিপিএমের কার্যালয়!

বার্নপুরে সেলের জমি উদ্ধারে অনড় প্রশাসন, তৃণমূলের পর এবার ভাঙা পড়ল সিপিএমের কার্যালয়!

বার্নপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্পাত সংস্থা ‘সেল’-এর জমি দখলমুক্ত করতে টানা পঞ্চম দিনেও চলল প্রশাসনের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। মঙ্গলবার সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙাপাড়া এলাকায় অভিযানে নামে ইস্কো স্টিল প্ল্যান্ট (আইএসপি) কর্তৃপক্ষ। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় সেলের জমিতে গড়ে ওঠা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়। একই সঙ্গে এদিন উচ্ছেদ করা হয়েছে বাম দল সিপিএমের কার্যালয় এবং তাদের মদতে চলা একটি অবৈধ পার্কিং গ্যারেজও। গত পাঁচ দিনে এই নিয়ে তৃণমূলের মোট সাতটি কার্যালয় ভাঙা পড়ল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা শিল্পাঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পারদ

উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুবোধ সিং এই অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, ২০০৬ সালে কারখানার প্রাচীর নির্মাণের সময় তৎকালীন কো ম্পা নির উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের লিখিত অনুমতি ও ‘নোটশিট’-এর ভিত্তিতেই এই পার্কিং গ্যারেজ তৈরি হয়েছিল। এমনকি লোহার অ্যাঙ্গেল-সহ গ্যারেজের বহু জিনিসপত্র কো ম্পা নির পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও উচ্ছেদের সমস্ত আইনি নোটিস আগেই জারি করা হয়েছিল বলে সেলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল মহিলা কাউন্সিলর জানিয়েছেন যে আইএসপি কর্তৃপক্ষ তিন দিন আগেই তাঁদের অফিস খালি করার নোটিস দিয়েছিল।

উচ্ছেদের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

শিল্পাঞ্চলের এই দীর্ঘমেয়াদি উচ্ছেদ অভিযানের মূল কারণ হলো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করে সেখানে প্রকৃত পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ করা। বারবার নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলি জমি খালি না করায় শেষ পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযানের ফলে শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জমি জবরদখল সংস্কৃতির অবসান ঘটতে পারে এবং কারখানার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের দলীয় কার্যালয় ভাঙার কারণে আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর একটি বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএসপি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই বুলডোজার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *