অবৈধ বালির পাহাড় ঘিরে উত্তপ্ত তালডাংরার রাজনীতি!

বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের পাঁচমুড়ার জয়পণ্ডা নদী থেকে তোলা পাহাড়প্রমাণ অবৈধ বালির স্তূপকে কেন্দ্র করে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। নদীগর্ভ থেকে বেআইনিভাবে বালি তুলে তা পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। লোকচক্ষুর আড়ালে নদী তীরবর্তী এলাকায় এই বিপুল পরিমাণ বালি জমিয়ে রাখায় স্থানীয় স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে। বিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মদতে এবং প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে এই বালি পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই বেআইনি কারবার চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই পাচারযোগের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এর পেছনে কার হাত রয়েছে তা খুঁজে বের করতে প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালি তোলার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে চোরাকারবারিদের অতি মুনাফা লাভের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এভাবে জয়পণ্ডা নদীর বুক চিরে লাগাতার বালি তোলার ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই বর্ষাকালে পার ভাঙনের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। বালি মাফিয়াদের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে আগামী দিনে সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এই বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক সৌভিক পাত্র জানান, সরকার পরিবর্তনের পর বালি পাচারের পুরনো সিন্ডিকেট বা সিস্টেম সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এই অবৈধ বালির স্তূপটি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য কম দামে বণ্টন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ থমথমে।