রাজগঞ্জে ১৭ হাজার ভুয়ো জব কার্ডের হদিশ, তদন্তের দাবিতে সরব রাজনৈতিক দলগুলি

রাজগঞ্জের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ব্যাপক কারচুপির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি ব্লক জুড়ে জব কার্ডের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) এবং আধার যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতেই ১৭ হাজারেরও বেশি ‘ভূতুড়ে’ বা ভুয়ো কার্ডের হদিশ মিলেছে। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো কার্ডের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসতেই ব্লক প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, এতদিন ধরে এই ভুয়ো কার্ডগুলির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের বিপুল অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে।
সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজগঞ্জে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। একই পরিবারে একাধিক কার্ড তৈরি করা এবং বহুলাংশে অস্তিত্বহীন বা মৃত ব্যক্তিদের নামে কার্ড সচল রেখে সরকারি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির বিরোধী দলনেতা নিতাই মণ্ডল। ভুয়ো কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী মানুষদের বঞ্চিত করে কারা এই বিপুল অর্থ পকেটে পুরেছে, তা খতিয়ে দেখতে তিনি ইতিমধ্যেই ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ব্যপক আর্থিক অনিয়মের এই অভিযোগে সুর মিলিয়েছে শাসক দলও। রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপালি দে সরকার এই নিখোঁজ ও ভুয়ো কার্ডগুলি অবিলম্বে বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো কার্ড চিহ্নিত হওয়ার ফলে আগামী দিনে রাজগঞ্জে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আধার সংযোগের মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপকদের তালিকা যাচাইয়ের কাজ আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ার শেষে সরকারি অর্থের অপচয় সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হবে।