বদলি হতেই আরও কোণঠাসা, এবার কলকাতা মেডিক্যালের প্রাক্তন সুপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ!

বদলি হতেই আরও কোণঠাসা, এবার কলকাতা মেডিক্যালের প্রাক্তন সুপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ!

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সদ্য প্রাক্তন সুপার চিকিৎসক অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সোমবারই তাঁকে কলকাতার এমএসভিপি (MSVP) পদ থেকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বদলি করা হয়েছিল। তার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ মঙ্গলবার তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই জোড়া ধাক্কায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের চিকিৎসা মহলে।

অভিযোগের পাহাড় ও তদন্তের কারণ

স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা বিশেষ সার্কুলারে জানানো হয়েছে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত থাকাকালীন অধ্যাপক ডা. অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতি, কর্তব্যে অবহেলা এবং একাধিক প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ জমা পড়েছে। সরকারি নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও রোগীরা হাসপাতালে এসে বেড পাচ্ছেন না, এমন বহু অভিযোগ আসছিল প্রশাসনের কাছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালের পরিকাঠামো পরিচালনা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও প্রাক্তন সুপারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যপালের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে বলা হয়েছে।

কড়া বার্তার নেপথ্যে সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোয় কোনো ধরনের খামতি রাখতে নারাজ বর্তমান সরকার। বিশেষ করে তৃণমূল আমলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চলা তথাকথিত ‘দালালরাজ’ এবং টাকার বিনিময়ে বেড পাইয়ে দেওয়ার চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল করতে মরিয়া রাজ্য প্রশাসন। এই প্রেক্ষিতে জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখতেই প্রাক্তন সুপারের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন সুপারের বিরুদ্ধে এই তদন্তের নির্দেশ অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোর শীর্ষ আধিকারিকদের জন্যও একটি বড় বার্তা। এর ফলে আগামী দিনে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগী পরিষেবা নিয়ে অবহেলা কমবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ডা. অঞ্জন অধিকারীকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক পদে স্থানান্তরিত করা হলেও, এই বিভাগীয় তদন্তের জেরে তাঁর পেশাগত ভবিষ্যৎ আরও বড়সড় সংকটের মুখে পড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *