অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি পুশব্যাকের প্রস্তুতি লালগোলায়, হোল্ডিং সেন্টারে ৬৫ বাংলাদেশিকে!

মুর্শিদাবাদের নবনির্মিত লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের নিয়ে জোরদার প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর পর্যন্ত ওই আটক কেন্দ্রে মোট ৬৫ জন বাংলাদেশিকে এনে রাখা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বুধবার সকালে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে আরও ৪৭ জন অনুপ্রবেশকারীকে এই সুনির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসা হয়।
বিএসএফের নির্দেশিকার অপেক্ষায় প্রশাসন
লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীকে নিয়ে আসার পর এখন পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। ধৃত বাংলাদেশিদের সীমান্ত পার করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (BSF) চূড়ান্ত নির্দেশিকা ও গ্রিন সিগনালের অপেক্ষায় রয়েছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। বিএসএফের তরফ থেকে সবুজ সঙ্কেত ও ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের সবুজ সঙ্কেত মিললেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
গ্রেফতার নয়, সরাসরি পুশব্যাকের নতুন নীতি
প্রশাসনিক মহলের মতে, লালগোলার এই তৎপরতা রাজ্যের অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তনেরই একটি বড় প্রতিফলন। উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন যে, এখন থেকে অনুপ্রবেশকারীদের আর প্রথাগতভাবে গ্রেফতার করে ভারতীয় জেলে আটকে রাখা হবে না; বরং তাঁদের সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত (Pushback) পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তার পরই সীমান্ত জেলা মুর্শিদাবাদে এই ধরনের হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করে দ্রুত পুশব্যাকের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মুর্শিদাবাদের লালগোলার নতুন হোল্ডিং সেন্টারে বুধবার দুপুর পর্যন্ত মোট ৬৫ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে।
- মঙ্গলবার ১৮ জনকে আটকের পর বুধবার সকালে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে আরও ৪৭ জনকে এখানে আনা হয়।
- ধৃত বাংলাদেশিদের সীমান্ত পার করে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিএসএফের নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
- অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার না করে সরাসরি বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন নীতি মেনেই এই পদক্ষেপ।