‘এই নেতাদের জন্যই দিদির কাছে যেতে পারতাম না’! এবার কাউন্সিলর পদও ছাড়লেন সুশান্ত, তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার পর এবার দলের অন্দরের ‘পাঁচিল’ ভাঙতে সরাসরি কাউন্সিলর পদ থেকেই ইস্তফা দিলেন সুশান্ত ঘোষ। পদত্যাগের পাশাপাশি দলেরই একাংশের হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “কিছু নির্দিষ্ট নেতার কারণেই আমি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছাতে পারতেন না।” ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, সুশান্তের এই চরম পদক্ষেপে তা এক অভূতপূর্ব সংকটের রূপ নিল।
নেত্রীর চারপাশে দুর্ভেদ্য প্রাচীর, বিস্ফোরক সুশান্ত
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুশান্ত ঘোষ তাঁর কাউন্সিলর পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পর এক ওলটপালট করা বিবৃতিতে সুশান্ত সরাসরি দলের অন্দরের নোংরা গোষ্ঠী রাজনীতিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার আনুগত্য আজও অটুট রয়েছে। কিন্তু দলের মধ্যে থাকা কিছু ক্ষমতা লোভী নেতা নেত্রীর চারপাশে এমন এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল তৈরি করে রেখেছিলেন যে, আমি চাইলেও অনেক সময় নেত্রীর কাছে পৌঁছাতেই পারতাম না। কর্মীদের কষ্টের অনেক কথা বলার থাকলেও তা মাঝপথেই আটকে দেওয়া হতো।”
গোষ্ঠী কোন্দল নাকি দলবদলের আগাম ইঙ্গিত?
তৃণমূল জমানার অবসান ঘটতেই কলকাতা পুরসভার একের পর এক কাউন্সিলরের এই বিদ্রোহী রূপ ও ইস্তফার হিড়িক শহরের পুরবোর্ডকে কার্যত খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুশান্ত ঘোষের মতো একনিষ্ঠ ও প্রবীণ নেতার এই পদত্যাগ আসন্ন পুরভোটের আগে জোড়াফুল শিবিরের জন্য এক মরণকামড়। দলের একাংশ বিষয়টিকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ’ বলে লঘু করার চেষ্টা করলেও, সুশান্তের এই ‘অল আউট’ বিদ্রোহের রেশ ধরে কলকাতার আরও বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর একই পথে হাঁটতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে।
চাপের মুখে শীর্ষ নেতৃত্ব
নির্বাচনে হারের পর যেখানে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল, সেখানে দলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ ও ভিভিআইপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুশান্তের এই জেহাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল। ক্ষুব্ধ সুশান্তের এই মারাত্মক অভিযোগের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে বুঝিয়ে দলে রাখতে কোনো পদক্ষেপ করে, নাকি শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কড়া ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।