পুরী থেকে ধৃত তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল! বিষ্ণুপুরের পলাতক নেতার বিলাসবহুল জীবন ও নাটকীয় পতন

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যজুড়ে চলা রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই এবার বড়সড় ধাক্কা খেল প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ ৯ দিনের লুকোচুরি খেলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। ওডিশার পুরীর এক গোপন ডেরা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বুধবারই ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
প্রকাশ্য জনসভায় হুমকি ও পলাতক বিধায়ক
দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, রাজ্যের ক্ষমতা বদলের পর তিনি একটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক সভা থেকে বিরোধী বিজেপি কর্মী এবং কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে তীব্র হুঁশিয়ারি ও হুমকি দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের হতেই গা ঢাকা দেন বিধায়ক। গ্রেফতারি এড়াতে আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার জন্য তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন, কিন্তু আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চ তাঁর জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে দেয়।
পৈলানের প্রাসাদোপম অট্টালিকা ও ছেলের গ্রেফতারি
বিধায়কের খোঁজে গত ১৪ মে পৈলানে দিলীপ মণ্ডলের এক বিলাসবহুল অট্টালিকায় হানা দেয় পুলিশ। তাঁর সেই প্রাসাদোপম বাড়ির অন্দরসজ্জা এবং রাজকীয় ঠাটবাট দেখে রীতিমতো চোখ চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। বিশাল লন, নিজস্ব সুইমিং পুল থেকে শুরু করে বাঘ ও ময়ূরের মূর্তি দিয়ে সাজানো সেই বাগানবাড়ি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে চলে আসে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সেখান থেকে চম্পট দেন বিধায়ক। এর ঠিক চার দিন পর, ১৮ মে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র-সহ পুলিশে জালে ধরা পড়েন বিধায়কের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডল। কিন্তু ছেলের গ্রেফতারির পরেও দিলীপ বাবুর কোনো হদিশ পায়নি পুলিশ।
৯ দিন পর ওডিশায় অপারেশন ‘বেঙ্গল এসটিএফ’
ছেলের গ্রেফতারির পর থেকেই দিলীপ মণ্ডলের ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়ে দেয় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অবশেষে ৯ দিনের মাথায় ওডিশার পুরীর সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এক গোপন ডেরায় হানা দেয় বেঙ্গল এসটিএফ। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় বিষ্ণুপুরের এই দাপুটে নেতাকে।
রাজ্যে ক্ষমতা চ্যুত হওয়ার পর একের পর এক বিধায়ক ও পুরনেতার এই আইনি বিপাকে জড়ানো এবং গ্রেফতারির ঘটনা তৃণমূলের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। পুলিশি জেরায় বিধায়কের কোনো কোনো গোপন সম্পত্তির হদিশ বা অন্য কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।