ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সিবিআইয়ের জালে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ কাদের-সহ ১০!

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সিবিআইয়ের জালে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ কাদের-সহ ১০!

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও তিন বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় শেখ শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ কাদের মোল্লা-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, দীর্ঘ তদন্তে ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক জোরালো তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে। সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পরেই এই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

রক্তাক্ত সন্দেশখালি ও সিআইডির চার্জশিট বিতর্ক

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক পরপরই। সন্দেশখালির ন্যাজোট এলাকায় দলীয় পতাকা খোলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের বাতাবরণ তৈরি হয়। যা পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নেয়। সেই অশান্তির আবহেই প্রদীপ মণ্ডল, সুকান্ত মণ্ডল এবং দেবদাস মণ্ডল নামে তিন বিজেপি কর্মীকে গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়ে পড়ায় রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার তদন্তভার প্রথমে রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখা বা সিআইডির হাতে যায়। কিন্তু সিআইডি আদালতে যে চার্জশিট পেশ করে, সেখান থেকে মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান-সহ ২৮ জনের নাম বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।

হাই কোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত ও বর্তমান প্রভাব

সিআইডির পেশ করা চার্জশিটে অসন্তুষ্ট হয়ে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। মামলার গুরুত্ব বিচার করে কলকাতা হাই কোর্ট সিআইডির ওপর আস্থা না রেখে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে একদম প্রথম থেকে নতুন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেয়। হাই কোর্টের সেই নির্দেশের পর সিবিআই ঘটনার পুনঃতদন্তে নামে এবং পাঁচ বছর পর এই মামলায় প্রথম বড়সড় সাফল্য পেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ কাদের মোল্লা-সহ ১০ জনের এই গ্রেপ্তারির ফলে সন্দেশখালির পুরোনো রাজনৈতিক হিংসার মামলাটি নতুন মোড় নিল এবং এর প্রভাব আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *