নন্দীগ্রামে প্রার্থীই পাচ্ছে না তৃণমূল, শুভেন্দুর খাসতালুকে কি তবে ভাঙনের মুখে জোড়াফুল!

নন্দীগ্রামে প্রার্থীই পাচ্ছে না তৃণমূল, শুভেন্দুর খাসতালুকে কি তবে ভাঙনের মুখে জোড়াফুল!

২০১১ সালে যে নন্দীগ্রামের মাটি আন্দোলনের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত হয়েছিল, ২০২৬ সালের উপনির্বাচনে সেই নন্দীগ্রামেই এখন প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না শাসকদল। নন্দীগ্রামে জোড়াফুলের টিকিট নিতে খোদ দলের নেতারাই তীব্র অনীহা প্রকাশ করছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই আসনেই জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীকালে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া এই খাসতালুকে লড়াইয়ের ময়দানে নামতেই রাজি নন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা।

নেতাদের অনীহা ও অভিমান

দলীয় সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের পুরনো ও একসময়ের দাপুটে নেতা শেখ সুফিয়ানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট থাকা এই বর্ষীয়ান নেতা সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ২০০৬ সাল থেকে লড়াই করলেও দল তাঁকে পরে আর গুরুত্ব দেয়নি, তাই এখন আর প্রার্থী হওয়ার মানসিকতা তাঁর নেই। তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করও এবার আর দাঁড়াতে রাজি নন। একদা শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ ও প্রাক্তন এই বিজেপি নেতা নির্বাচনের মুখে তৃণমূলে যোগ দিয়ে টিকিট পেয়েছিলেন। দলের এই শোচনীয় পরিস্থিতিতে তিনিও জানিয়ে দিয়েছেন, লড়াই করার মতো আর কোনো ইচ্ছে তাঁর অবশিষ্ট নেই।

নেপথ্যের কারণ ও প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এই প্রার্থী সংকটের মূলে রয়েছে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতৃত্বের দূরদর্শিতার অভাব। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের পুরনো সৈনিক শেখ সুফিয়ানকে কোণঠাসা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ পবিত্র করকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল, যা পুরনো কর্মীদের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। এখন হারের ভয়ে নতুন ও পুরনো কোনো নেতাই আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

এই পরিস্থিতির জেরে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একদা যে অঞ্চলটি তৃণমূলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে উপনির্বাচনের আগেই প্রার্থী না পেয়ে পিছু হঠার এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে শাসকদালের ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিল এবং এর ফলে ওই আসনে বিজেপির রাজনৈতিক আধিপত্য আরও মজবুত হওয়ার পথ তৈরি হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *