মার্কিন দূতাবাসের আপত্তিতে আটকে গেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুরবানি’

মার্কিন দূতাবাসের আপত্তিতে আটকে গেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুরবানি’

আসন্ন ইদুল আজহায় বাংলাদেশে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর কুরবানি নিয়ে দেশজুড়ে যে তুমুল শোরগোল তৈরি হয়েছিল, তাতে নাটকীয় মোড় এসেছে। তবে এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, এটি আসলে ৬৮০ কেজি ওজনের একটি বিরল এলবিনো মহিষ। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের আপত্তির মুখে শেষ মুহূর্তে মহিষটির কুরবানি আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে পুলিশ নারায়ণগঞ্জ থেকে মহিষটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে এটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ ও মার্কিন দূতাবাসের অসন্তোষ

ঘটনার সূত্রপাত হয় ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে, যার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ টু স্যাক্রিফাইস ডোনাল্ড ট্রাম্প, দ্য এলবিনো বুল’। মাথায় ঢেউখেলানো সোনালি চুল এবং মুখাবয়বের কারণে খামারির ভাই মহিষটির নাম রেখেছিলেন মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্টের নামানুসারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নজরে আসে। জানা গেছে, একটি পশুর এমন নামকরণ এবং তা কুরবানির সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন দূতাবাস সরকারের উচ্চপর্যায়ে গভীর অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করে। কূটনৈতিক এই চাপের পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মহিষটির শেষ গন্তব্য চিড়িয়াখানা

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার খামারি জিয়াউদ্দিন মৃধার খামারে চার বছর বয়সী এই মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাতেন। এপি, এএফপি ও রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে স্থান পাওয়া মহিষটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রীতিমতো ভাইরাল হয়ে ওঠে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান নামের এক ক্রেতা মহিষটি কুরবানির উদ্দেশ্যে কিনে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে বুধবার পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। প্রশাসন খামারিকে আশ্বস্ত করেছে যে, মহিষটির বাজারমূল্য সরকার পরিশোধ করবে অথবা কুরবানির জন্য সমমূল্যের অন্য একটি পশু সরবরাহ করা হবে। ফলে ধর্মীয় ত্যাগের উৎসবের ঠিক আগের দিন বহুল আলোচিত এই মহিষটির ঠাঁই হতে যাচ্ছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *