বিরাটের ছায়ায় চাপমুক্ত রজত, বেঙ্গালুরুকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলে সেনাপতি পাটিদার

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে বিরাট কোহলি এখনও সবচেয়ে বড় মুখ এবং প্রধান ‘পোস্টার বয়’। মাঠে তাঁর উপস্থিতি মানেই সব আলো নিজের দিকে টেনে নেওয়া। কিন্তু এই বিরাট-আলোর আড়ালে থেকে নীরবে নিজের কাজটুকু করে যাচ্ছেন রজত পাটিদার। দলের বর্তমান অধিনায়ক হিসেবে গতরাতে প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাতকে ৯২ রানে উড়িয়ে দিয়ে কার্যত একা হাতে আরসিবিকে আইপিএল ফাইনালে তুলেছেন তিনি। ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন পাটিদার। তবে এত বড় সাফল্যের পরও আলোচনার কেন্দ্রে কোথাও না কোথাও সেই কোহলিই চলে আসছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরাটের এই অতিরিক্ত প্রচারই আসলে পাটিদারের জন্য বড় ঢাল হয়ে উঠছে।
আলোটা কোহলির দিকে, চাপমুক্ত পাটিদার
সাধারণত আইপিএলের অন্য দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, দল হারলে বা জিতলে প্রথম সমালোচনা কিংবা প্রশংসা ধেয়ে আসে অধিনায়কের দিকে। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে ছবিটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। সেখানে দলনেতা পাটিদার হলেও, প্রচারের মূল ‘মুখ’ এখনও কোহলি। লিগ ম্যাচে দল হারলেও আলোচনা জমে ওঠে কোহলির মাঠের আচরণ বা প্রতিপক্ষের সাথে তর্ক নিয়ে, যার ফলে অধিনায়কত্ব নিয়ে খুব বেশি কাটাছেঁড়া হয় না। এই অতিরিক্ত স্পটলাইট কোহলির দিকে থাকায় পাটিদার অনেকটাই চাপমুক্ত থেকে নিজের স্বাভাবিক খেলা ও নেতৃত্ব দিতে পারছেন।
শান্ত মস্তিষ্ক ও কোহলির জাদুমন্ত্র
রজতের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর শান্ত স্বভাব ও পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। মাঠে অতিরিক্ত উত্তেজনা বা নাটকীয়তা না দেখিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় কৌশল সাজাতে পারেন তিনি। এর পেছনে বড় কারণ বিরাটের প্রকাশ্য সমর্থন। কোহলি নিজে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে পাটিদারের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। ড্রেসিংরুমে কোহলির মতো মহাতারকার এই সমর্থন রজতের অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। কোহলি সামনে থেকে বাইরের সমস্ত চাপ শুষে নিচ্ছেন, আর সেই সুযোগে পাটিদার নিজের মতো করে দল পরিচালনা করছেন।
একজন আগ্রাসী ও আবেগপ্রবণ, অন্যজন শান্ত ও নির্লিপ্ত— কোহলি এবং পাটিদারের এই ‘আগুন ও বরফ’ জুটিই এখন আরসিবির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আর এই জাদুমন্ত্রেই বেঙ্গালুরুর ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে টানা দু’বার দলকে ফাইনালে তোলার নজির গড়লেন রজত পাটিদার।