সরকারি কর্মচারীদের স্ত্রীদের বাদ দিয়ে এবার দ্বিগুণ ভাতার আশ্বাস, অন্নপূর্ণা যোজনায় আশার আলো দেখছেন খেটে খাওয়া মহিলারা!

রাজ্যে বড়সড় আর্থিক সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়ে চালু হতে চলেছে নতুন সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তুলনায় এই নতুন প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হতে চলেছে। তবে এই বিপুল ভাতার সুবিধা যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার জন্য নিয়মে আনা হচ্ছে কঠোর কড়াকড়ি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বা আধা-সরকারি চাকুরিজীবীদের স্ত্রী এবং আয়কর দাতারা এই ভাতার আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়বেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আশার আলো দেখছেন প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া পরিবারের মহিলারা।
ভুয়ো নাম ছাঁটাই ও স্বচ্ছতার দাবি
নতুন এই ব্যবস্থায় সুবিধাভোগীদের অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই নতুন করে আবেদন করতে হবে। প্রশাসনের অনুমান, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তালিকায় ঢুকে পড়া প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম এই কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ যেতে পারে। সাধারণ মহিলাদের অভিযোগ, বহু উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী ও সচ্ছল পরিবারের মহিলারাও এতদিন নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাতা পেয়ে আসছিলেন, যা তাঁদের কাছে খুব একটা প্রয়োজনীয় ছিল না। নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এই ধরনের সচ্ছল পরিবারের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও স্বস্তি
এই প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র ভারতীয় মহিলারাই আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং সিএএ-তে আবেদনকারীরাও প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশা, কঠোর স্ক্রিনিং সত্ত্বেও বাংলার প্রায় ২ কোটি মহিলা এই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া পরিবারের নারীদের মতে, বর্তমান বাজারের অগ্নিমূল্যের বাজারে পূর্বের ১৫০০ টাকায় তেমন কোনো সুরাহা হতো না। এখন সরাসরি ৩ হাজার টাকা হাতে এলে তা সন্তানদের পড়াশোনা, সংসার চালনা এবং কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের আর্থিক ভিত মজবুত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।