ভরাডুবির পর তৃণমূলে গৃহযুদ্ধ, ইস্তফার হিড়িকে অভিষেকের দিকেই আঙুল তুললেন কল্যাণ

দলীয় স্তরে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার ইস্তফা এবং লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে এবার বেনজির কোন্দল শুরু হলো তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। ভোট মিটতেই দলের ব্যর্থতার জন্য সরাসরি দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-কে কাঠগড়ায় তুললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর মতো প্রথম সারির নেতাদের পদত্যাগের পর দলের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে।
আইপ্যাক ও অবজারভার পদ বাতিলের জের
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের মূলে রয়েছে ২০২১ সালের পর দলের সাংগঠনিক স্তরে আনা একাধিক পরিবর্তন। প্রবীণ এই নেতার দাবি, দলে দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক ঘরানার ‘অবজারভার’ বা পর্যবেক্ষক পদটি তুলে দিয়ে পুরো রাশ আইপ্যাকের হাতে সঁপে দেওয়াই ছিল মস্ত বড় ভুল। কার মস্তিষ্কপ্রসূত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানান যে বিগত লোকসভা নির্বাচনে তিনি এবং মহুয়া মৈত্র আইপ্যাকের কোনো সাহায্য ছাড়াই জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর মতে, রাজনীতি বা জনভিত্তিহীন কিছু সংস্থাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই আজ দলের এই দশা।
নেতৃত্বের দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের এই বর্তমান ডামাডোলের পেছনে মূলত দলের পুরনো বনাম নতুন প্রজন্মের ক্ষমতার লড়াই এবং নীতিগত সংঘাত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতাদের একাংশ মনে করছেন, ২০১১ সালের পর হঠাৎ বড় নেতা হয়ে ওঠা একঝাঁক নতুন মুখকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়েছেন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে। মানুষের ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েও মাঝপথে পদত্যাগ করার এই হিড়িককে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বিজেপির উদাহরণ টেনেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষীয়ান সাংসদের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ তৃণমূলের অন্দরে এক গভীর নেতৃত্বসংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক ঐক্যে বড়সড় চির ধরাতে পারে।