৮ম বেতন কমিশনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আভাস, সরকারি কর্মীদের বেতন কি সত্যিই ছুঁতে পারে ১০ লাখ

অষ্টম বেতন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে দেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কর্মচারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটি নতুন ৫-স্তরের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ফর্মুলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই নজিরবিহীন প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত পায়, তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন এক ধাক্কায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সর্বোচ্চ স্তরের বেতন প্যাকেজ প্রায় ১০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে এখন জোর চর্চা চলছে।
৫-স্তরের নতুন ফর্মুলা ও বেতন বৃদ্ধির সমীকরণ
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলো মূলত একটি গাণিতিক গুণক, যা কর্মচারীদের বর্তমান মূল বেতনের সাথে গুণ করে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনে এই গুণকটি ছিল ২.৫৭। তবে এবার কর্মচারী সংগঠনগুলি ঢালাও নিয়মের পরিবর্তে পে লেভেল অনুযায়ী ৫টি ভিন্ন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। এই ফর্মুলা মেনে নেওয়া হলে লেভেল ১৭ ও ১৮-এর মতো শীর্ষ স্তরের সিনিয়র অফিসারদের মূল বেতন বর্তমানের ২.৫ লক্ষ টাকা থেকে প্রায় ৪.৩৮ গুণ বেড়ে ১০.৯৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
আর্থিক চাপ ও পুরনো পেনশনের দাবি
এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একটি মস্ত বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল বর্তমান কর্মচারীদের বেতনই বাড়াবে না, বরং পেনশনভোগীদের ভাতাও বিপুল পরিমাণে বাড়িয়ে দেবে। ফলে সরকারি কোষাগারের ওপর তীব্র চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং বর্তমান বাজারের বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রশাসনকে। এর পাশাপাশি, নতুন পেনশন স্কিমের (NPS) অনিশ্চয়তা দূর করতে কর্মচারীরা পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) ফিরিয়ে আনার দাবিতেও সরব হয়েছেন, যা এই মুহূর্তে পুরো প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।