দলীয় কোন্দল চরমে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকারের দ্বারস্থ কাকলি

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হলো। দলের সতীর্থ ও নবনিযুক্ত মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘মৌখিক হেনস্থা’ এবং ‘নারীবিদ্বেষ’-এর গুরুতর অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পদ হারানো ও ক্রমবর্ধমান দূরত্ব
সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলি ঘোষদস্তিদারকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের পরপরই কাকলি ঘোষদস্তিদারের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তিনি দলের যাবতীয় সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এরপর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে যখন তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সভাতেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্থিরতা
দীর্ঘদিনের দলীয় সতীর্থর বিরুদ্ধে সরাসরি লোকসভার স্পিকারের কাছে নালিশ জানানোয় তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় পদ থেকে অপসরণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সভাতে উপস্থিতি—এই পুরো বিষয়টি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণকেই প্রতিফলিত করছে। কাকলি ঘোষদস্তিদারের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।