রাজনীতি নয়, হৃদয়ের টানে মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী; ইসকনের সেবায় মুগ্ধ শুভেন্দু

রাজনীতি নয়, হৃদয়ের টানে মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী; ইসকনের সেবায় মুগ্ধ শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার নদীয়ার মায়াপুরে ইসকন মন্দিরে গিয়ে বিশেষ পুজো ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মায়াপুরের ইসকন মন্দির চত্বরে তিনি এক অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও ভক্তিময় পরিবেশে সময় অতিবাহিত করেন।

মায়াপুর সফরের বিশেষ মুহূর্তসমূহ:

  • ধর্মীয় আচার: মন্দিরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ যজ্ঞে অংশ নেন। এরপর তিনি ইসকনের গোশালায় গিয়ে পরম যত্নে ‘গো-সেবা’ করেন; নিজের হাতে গোমাতাকে খাবার খাওয়ান এবং জল দিয়ে পা ধুইয়ে দেন।
  • রাধামাধব দর্শন: চন্দ্রোদয় মন্দিরে রাধামাধবের বিগ্রহ দর্শন করে পুজো ও আরতিতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। আরতি শেষে তিনি বিগ্রহের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম জানান।
  • প্রভুপাদের স্মরণ: ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের মন্দিরে গিয়েও তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সেখানেও সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন।
  • ভক্তদের সঙ্গে আলাপ: মন্দির চত্বরে উপস্থিত সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে মিশে যান, অনেকের সঙ্গে হাত মেলান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা:

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, রাজনীতিকের চেয়েও বড় পরিচয় হিসেবে তিনি একজন ‘সনাতনী এবং ইসকনের ভক্ত’ হিসেবে এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কালীঘাট, বেলুড় মঠ, জৈন মন্দির ও লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে গিয়েছি, তবে মায়াপুরে আসার একটা বিশেষ ইচ্ছা ছিল।”

ইসকনের সন্ন্যাসীদের নিঃস্বার্থ কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “ইসকনের সন্ন্যাসীরা যেভাবে সমস্ত অপমান এবং লাঞ্ছনা সহ্য করার পরেও থেমে না থেকে নিঃস্বার্থভাবে গীতার বাণী প্রসার ও প্রচার করে চলেছেন, তা সত্যিই বন্দনীয়।”

তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠা পালন করেন। প্রতি বছর দোলপূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী এবং রথযাত্রার সময়—এই তিনবার তিনি নিয়ম মেনে রাধামাধবের বিশেষ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। মায়াপুর সফর শেষে আগামী দিনে রাজ্যের মানুষের কল্যাণে কাজ করার এবং বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রার্থনাই তিনি রাধামাধবের চরণে জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *