স্বেচ্ছায় ফিরলে সাহায্য, নয়তো কড়া পদক্ষেপ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চরম হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত ফেন্সিং বা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই এবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এক চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে, তারা যেন নিজে থেকেই নিজেদের দেশে ফিরে যায়। স্বেচ্ছায় ফিরে গেলে প্রশাসন তাদের সবরকম সাহায্য করবে এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। অন্যথায়, শনাক্তকরণ অভিযান শুরু হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বড় সাফল্য, বিএসএফ পেল জমি
দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ থমকে ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের মাত্র সাত দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘চিকেনস নেক’-এর ১২১ হেক্টর জমিও বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সাঁড়াশি অভিযানের মূল কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে চলা অনুপ্রবেশের স্থায়ী সমাধান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সরকারের এই চরম হুঁশিয়ারি এবং ডিটেনশন সেন্টার বা আটক শিবির তৈরির ঘোষণার ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হবে। এর প্রভাবে আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ ও আইনি ধরপাকড় শুরু হওয়ার আগেই বহু মানুষ নিজে থেকেই সীমান্ত পার হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারে। একই সাথে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হলে ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশের ঘটনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে।