মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও দিল্লি নয়! রাজ্যসভার প্রস্তাব ফেরালেন সিদ্দারামাইয়া
May 28, 20266:01 pm

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নিলেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় রাজনীতি বা দিল্লির সক্রিয় রাজনীতিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে তাঁর নেই এবং কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে আসা রাজ্যসভার আসনের প্রস্তাবও তিনি বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের মূল বিষয়বস্তু:
- রাজ্য রাজনীতিতে অনড়: মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, তিনি কর্নাটকের সক্রিয় রাজনীতিতেই থেকে যেতে চান। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন দিল্লিতে যেতে রাজি হননি, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
- নেতৃত্ব বদল: কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং তাঁর জায়গায় ডি কে শিবকুমারকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন যে, তিনি দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
- কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অস্বস্তি: কংগ্রেসের অন্দরের খবর অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে জাতীয় স্তরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং রাজ্যসভার সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে কর্নাটকের রাজনীতির বাইরে তাঁর প্রভাব কাজে লাগানো যায়। কিন্তু তাঁর এই ‘না’ করে দেওয়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
- ভবিষ্যৎ সমীকরণ: আগামী ২০২৮ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের লক্ষ্যেই কংগ্রেস দল এই রদবদল করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সিদ্দারামাইয়ার মতো প্রভাবশালী নেতার কর্নাটকের রাজনীতিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের পথচলা এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিদ্দারামাইয়ার এই সিদ্ধান্ত কর্নাটকের আগামী দিনের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এল। ডি কে শিবকুমারের নেতৃত্বে নতুন সরকার কীভাবে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে এবং রাজ্যের রাজনীতিতে সিদ্দারামাইয়া ঠিক কী ভূমিকা পালন করেন, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।