রাজমিস্ত্রি থেকে পুরপ্রধান, মাটির নিচে লুকোনো ২ কোটির রহস্যভেদ!

রাজমিস্ত্রি থেকে পুরপ্রধান, বাদুড়িয়ায় দীপঙ্করের উত্থান ও পতনের নেপথ্যে
একদা রাজমিস্ত্রি হিসেবে দিনমজুরি করা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের রকেট গতিতে উত্থান এবং পরবর্তীকালে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার এই প্রাক্তন চেয়ারম্যানের জীবন যেন অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। সাধারণ এক শ্রমজীবী মানুষ থেকে স্থানীয় রাজনীতির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে ওঠার পেছনে থাকা অঢেল সম্পদের উৎস খুঁজতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
পাটখেতে লুকানো কোটি কোটি টাকা
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। আবাস যোজনা, চাকরি দেওয়া এবং জমির অবৈধ কারবারের নামে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার দীপঙ্করের মালিকানাধীন পাটখেতের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। প্রায় ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি বস্তা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা গণনার জন্য দীর্ঘ সময় ব্যাংক কর্মী এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের গলদঘর্ম হতে হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড় ও ক্ষমতার দাপট
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০১০ সালে কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা দীপঙ্কর দ্রুতই রাজনৈতিক দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন এবং পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ দখল করেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করতেন। এমনকি আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার পাশাপাশি একজনের ব্যক্তিগত নথি ব্যবহার করে ভুয়া চেকবুক তৈরির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে পুলিশ তাকে দফায় দফায় জেরা করছে এবং এই দুর্নীতির জালে আর কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চলছে। তার এই বিপুল সম্পদের উৎস এবং অন্যান্য লুকানো সম্পত্তির সন্ধানে তদন্তকারীরা এখন মরিয়া।