দুর্গাপুরে তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে তুলকালাম, আদালত চত্বরে উঠল চোর স্লোগান

হিংসা ছড়ানো এবং এলাকায় সন্ত্রাস তৈরির অভিযোগে দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজীব ঘোষকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে আসা হলে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পুলিশি নিরাপত্তার বলয় ভেঙে আদালত চত্বরে তাঁকে দেখামাত্রই বিক্ষোভের মুখে পড়েন এই তৃণমূল নেতা।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও বিক্ষোভের আবহ
আদালত চত্বরে আগে থেকেই জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ। রাজীব ঘোষকে পুলিশ ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালতের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো দেখানো হয় এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন উপস্থিত বিজেপি সমর্থকরা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিশাল পুলিশবাহিনী। উত্তেজনা প্রশমনে আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা।
অভিযোগ ও পাল্টা রাজনৈতিক তরজা
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই কাউন্সিলর এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস, ভয় দেখানো এবং তোলাবাজির মতো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বুধবার গভীর রাতে ইস্পাত নগরীর তানসেন এলাকায় গোপন বৈঠকের সময় স্থানীয়রা তাঁকে পাকড়াও করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের দাবি, নির্বাচনের আগে ও পরে এলাকায় যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে তার মূল কারিগর রাজীব ঘোষ। সাধারণ মানুষের টাকা লুট করার কারণেই তাঁকে আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। যদিও এই গ্রেফতারি ও বিক্ষোভের ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।