১৭ বছর পর ‘স্বদেশে’ ফেরার ধুম অনুপ্রবেশকারীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আয়লা’র তান্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ওপার বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলি। সেই সময়ে জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে চলে এসেছিলেন খুলনার মফিজুল মোল্লা। গত ১৭ বছর ধরে উত্তর চব্বিশ পরগনার নিউটাউন এলাকায় রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের আকস্মিক কড়াকড়ি এবং বাড়িওয়ালাদের আপত্তির জেরে অবশেষে নিউটাউনের কাজ ফেলে সপরিবারে সীমান্তমুখী হতে বাধ্য হলেন মফিজুল। শুধু মফিজুল একাই নন, তাঁর মতোই সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ সীমান্ত দিয়ে এখন ওপারে ফেরার ধুম লেগেছে বহু পরিবারের।
৪০ বছর ভারতে থেকেও শিকড়ের টানে ফিরছেন দমদমের ফরিদ
মফিজুল মোল্লার কাহিনী যদি হয় প্রশাসনিক তাগিদ, তবে দমদমের বাসিন্দা ফরিদ শেখের গল্পটা সম্পূর্ণ আলাদা। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সপরিবারে ভারতে বসবাস করছেন ফরিদ বাবু। তাঁর সন্তানেরা এপার বাংলাতেই বড় হয়েছে, এখানেই তাদের জন্ম ও পড়াশোনা। তা সত্ত্বেও ওপারে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি টান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সবকিছু গুটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফরিদ শেখের কথায়, “এত বছর ধরে এদেশকে আপন করে নিয়েছিলাম। সন্তানদের জন্মও এখানে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে, তাছাড়া বুড়ো বাবা-মায়ের জন্য মনটা বড় কান্দে। তাই সব ছেড়ে নিজেদের ভিটেতেই ফিরে যাচ্ছি।”
কেরল থেকেও দলে দলে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা
সীমান্তের খবর অনুযায়ী, শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, দূরবর্তী রাজ্য কেরল থেকেও বহু বাঙালি শ্রমিক আইনি আতঙ্কে এবং নথিপত্র স্ক্রুটিনির ভয়ে তড়িঘড়ি রাজ্যে ফিরছেন এবং সেখান থেকে সীমান্ত পার হওয়ার পথ খুঁজছেন। নিউটাউন ও রাজারহাট সংলগ্ন এলাকার একাধিক বাড়িওয়ালা এখন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র বা পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া তাঁরা আর কোনো পরিযায়ী শ্রমিককে ঘর ভাড়া দেবেন না। এই সাঁড়াশি চাপের মুখেই গত কয়েক দিনে সীমান্ত এলাকায় ওপারে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশও পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখছে।