বিদায় নিচ্ছে কালবৈশাখী, সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ফের ঊর্ধ্বমুখী পারদ আর উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/03/12/rain-2026-03-12-20-25-45.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
গত কয়েকদিনের কালবৈশাখীর দাপটে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভ্যাপসা গরম থেকে যে সাময়িক স্বস্তি মিলেছিল, তা এবার শেষের পথে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে। কমতে চলেছে কালবৈশাখীর দাপট, আর তার হাত ধরেই আগামী তিন দিনে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ১০টি জেলায় হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে সপ্তাহের শুরু থেকেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। সোমবারের পর থেকে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে এবং মাঝেমধ্যে দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও কোথাও কোনও সতর্কতা জারির মতো পরিস্থিতি থাকবে না। ফলে, মে মাসের চড়া রোদের সঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ও হাঁসফাঁস গরম আবারও ফিরতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গবাসীর জীবনে।
পাহাড়ে দুর্যোগের মেঘ, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
দক্ষিণবঙ্গে যখন গরম বাড়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত ছবির কোলাজ দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর প্রকোপ জারি থাকবে। সোমবার ও মঙ্গলবার বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও, সপ্তাহের মধ্যভাগ অর্থাৎ বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির দাপট এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে।
বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো পাহাড়ি ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে আগামী বৃহস্পতিবার থেকেই ভারী দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই জেলাগুলিতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা সপ্তাহান্ত পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মালদহ বা দুই দিনাজপুরের মতো উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে, তবে সেখানে আপাতত কোনও বড় বিপর্যয় বা সতর্কবার্তা নেই।
মূলত বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে তৈরি হওয়া হাওয়া বদলের জেরে দক্ষিণবঙ্গ থেকে জলীয় বাষ্পের জোগান কমে যাওয়া এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ঘূর্ণাবর্ত ও আর্দ্র বাতাসের প্রবেশের কারণেই আবহাওয়ার এই বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে একদিকে যেমন দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের ফের তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তেমনই অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে ধস বা যান চলাচলের সমস্যা তৈরি হওয়ার মতো সম্ভাব্য প্রভাব দেখা দিতে পারে।