সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা, একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা ইন্ডিয়া জোটের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে বিজেপির ঘটানো “রাজনৈতিক হিংসা এবং রাষ্ট্রীয় মদতে সন্ত্রাস” বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করার জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ইন্ডিয়া জোটের দুই শীর্ষ নেতার এই পারস্পরিক অবস্থান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জাতীয়তাবাদের আড়ালে হিংসার রাজনীতি, সরব অভিষেক
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানান, গত বছর সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর জন্য তিনি পাঁচটি দেশ সফর করে দেশের হয়ে সওয়াল করেছিলেন। অথচ আজ তিনি নিজেই রাজনৈতিক হিংসা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার। বিজেপির নাম না করে তিনি কটাক্ষ করেন, যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করে, এটি তাদেরই কাজ। শাসক দলকে প্রশ্ন করলেই বিরোধী নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে এবং ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। তবে নিজের নীতির সঙ্গে আপস না করে গণতন্ত্র রক্ষার্থে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
হামলার তীব্র নিন্দা রাহুল গান্ধীর, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একে বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির কুৎসিত মুখ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, একজন নির্বাচিত সাংসদের ওপর হামলা আসলে সেই সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, যাঁরা তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিষেকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তাঁর ও তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ইট, পাথর ও ডিমের হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যাতে তাঁর চোখে আঘাত লাগে। এই ঘটনার পর ইন্ডিয়া জোটের দুই নেতার একজোট হওয়া আগামী দিনে জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের প্রতিরোধকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।