‘ওসব নাটক…’, অভিষেককে খোঁচা সুকান্তর

‘ওসব নাটক…’, অভিষেককে খোঁচা সুকান্তর

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা এবং পরবর্তী ঘটনাক্রম নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। শনিবারের ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়া ও সেখান থেকে ফিরে আসার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেতৃত্বকে। তিনি স্পষ্টতই একে একটি পূর্বপরিকল্পিত নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, অ্যাসিড ছোড়ার অজুহাতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সন্দেশখালিতে নিজের ওপর হওয়া আক্রমণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুকান্ত দাবি করেন, সেদিন তাকে দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছিল, অথচ এক্ষেত্রে অভিষেকের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। পালাবদলের ২৬ দিনের মাথায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই জনরোষের ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির যে অভিযোগ তুলেছেন, তার জবাবে সুকান্ত মজুমদার ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন যে, ক্ষমতায় থাকলে হয়তো উডবার্ন ওয়ার্ডে জায়গা হতো, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। হাসপাতালের ভর্তি নিয়ে মমতার এমবিবিএস ও এমডি ডিগ্রি থাকার কটাক্ষ করে সুকান্ত অভিযোগ করেন, সিআইডির তলব এড়ানোর জন্যই কি এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নাটক, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পরিষ্কার করতে হবে।

এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। শনিবারের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়া ব্লকের শীর্ষ নেতারা অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেও, বিজেপির দাবি—এটি তৃণমূলের নিজেদের ব্যর্থতা ও জনরোষের ফসল। এই ঘটনার প্রভাবে আগামী দিনে রাজ্যে বিরোধী ও শাসকদলের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *