কামারহাটিতে বিধায়কের অফিসে পুলিশের হানা, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মদন মিত্র

রবিবার ছুটির সকালে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের পরিচিত ডেরা ‘উদয় ভিলা’-তে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনীর তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। ব্যারাকপুরের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পুলিশি এই অভিযানে তালাবন্ধ বাড়ির দরজা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। তবে এই ঘটনায় ঘাবড়ে না গিয়ে উল্টো চ্যালেঞ্জের সুরেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।
জমি বিতর্ক ও রহস্যময় গুড্ডু যোগ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘উদয় ভিলা’ নামের এই ভবনটি একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার জমিতে কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে। মূলত এই অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশি তৎপরতা চালানো হয়। এই তল্লাশির নেপথ্যে ‘গুড্ডু’ নামে এক ব্যক্তির যোগসূত্র নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মদন মিত্র নিজে গুড্ডুর সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও পুলিশের এই অভিযানকে রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই দেখছেন তিনি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পুলিশি অভিযানে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই এবং প্রয়োজনে তদন্তের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব
ঘটনার প্রেক্ষিতে মদন মিত্র অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষকে বিঁধেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পুলিশ পাঠিয়ে চমক দিয়ে তাকে দমানো সম্ভব নয়। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেছেন, সাহস থাকলে ইডি বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তে নামানো হোক। বিধায়কের অফিসে বা তার সাথে যুক্ত ভবনে পুলিশের এই আকস্মিক হানা একদিকে যেমন জমির মালিকানা ও নির্মাণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে থাকা অস্বস্তির বার্তাও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে।