ভারত-নেপাল সীমান্তে ‘সিল’ রহস্য: থাই তরুণীদের গ্রেফতারের নেপথ্যে বড় কোনো জালিয়াত চক্র?

ভারত-নেপাল সীমান্তে থাই যুবতী গ্রেফতারের ঘটনায় পাসপোর্ট জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর জাল
ভারত-নেপাল সীমান্তের রানিগঞ্জ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুই থাই তরুণী গ্রেফতারের পর আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জালিয়াতির এক বড়সড় কারবারের হদিশ মিলেছে। এসএসবি জওয়ানদের তৎপরতায় ধরা পড়া পিমচানোক কেটলা ও চিন্তারা বুদ্ধফং নামে ওই তরুণীদের পাসপোর্টে ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও ইমিগ্রেশনের ভুয়া ‘এগজিট’ সিল পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা এখন রীতিমতো হকচকিত। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বেশ কয়েক মাস আগেই সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস থেকে এন্ট্রি ও এগজিটের সরকারি সিল রহস্যজনকভাবে চুরি গিয়েছিল, যা এখন বেআইনি অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সিল চুরি ও সরকারি অন্দরে যোগসাজশের ইঙ্গিত
ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সিল চুরির ঘটনার পরও কেন তার নকশা বদল করা হলো না এবং কেন এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, চুরি যাওয়া ওই আসল সিল বা তার নকল ব্যবহার করেই মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার করানো হচ্ছিল। সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে জলট্যাঙ্কি আইসিপি’র একজন প্রাক্তন এবং একজন কর্মরত আধিকারিকের নাম। এই চক্রের মূল হোতা রাজস্থানের বাসিন্দা জিতেন্দ্র মেহেরা ওরফে অভিষেক ঘটনার পর থেকে পলাতক। ধৃত গাড়িচালকের বয়ান অনুযায়ী, জিতেন্দ্র বর্তমানে নেপালের ভদ্রপুরে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক চক্রের শিকড় ও প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরেই এই রমরমা কারবার চলে আসছে বলে ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও এই চক্রের সহায়তায় তারা অতীতেও একইভাবে নেপাল হয়ে থাইল্যান্ডে ফিরে গিয়েছিল। এই জালিয়াতির শিকড় ভারত ও নেপাল উভয় দেশের প্রভাবশালীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই নেটওয়ার্কে সরকারি কর্মী ও কিছু অসাধু গাড়িচালকের সম্পৃক্ততা পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বড় কোনো রাঘববোয়ালদের জালে তুলতেই বর্তমানে দার্জিলিং পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তদন্ত করছে।