পলাতক বাহুবলী খোকন দাস উত্তরপ্রদেশে গ্রেফতার, ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হচ্ছে বাংলায়!

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা এলাকার দাপুটে নেতা খোকন দাসকে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক থাকার পর অবশেষে প্রয়াগরাজের হান্ডিয়া টোল প্লাজায় বর্ধমান থানার পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। রবিবার গ্রেফতারের পর খোকন দাসকে স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করিয়েছে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হচ্ছে।
গ্রেফতারির কারণ ও রাজনৈতিক দাপট
একসময় বর্ধমানের ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত খোকন দাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি এবং খুনের চেষ্টা সহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু নতুন অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক থাকাকালীন খোকন দাসের রাজনৈতিক দাপট ছিল চরম। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আগে প্রকাশ্য জনসভায় বিজেপি নেতাদের বেঁধে রাখা এবং পাঁচ মিনিটে বিরোধীদের সভা বন্ধ করে দেওয়ার মতো চরম হুমকিমূলক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন এই নেতা।
এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
খোকন দাসের গ্রেফতারির খবর বর্ধমানে পৌঁছাতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর একসময়ের নির্বাচনী এলাকা কাঞ্চননগরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং বিজেপি কর্মীরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। গেরুয়া আবির খেলে এবং দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতারি পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অধরা থাকা এই দাপুটে নেতার গ্রেফতারির ফলে যেমন আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরবে, তেমনই শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক শক্তির ওপর চাপ তৈরি হবে এবং এলাকায় বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে বাড়তি অক্সিজেন পাবে।