লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকলেও করতে হবে নতুন আবেদন, ৩ জুন টাকা পেতে মহিলাদের মানতে হবে জরুরি শর্ত

রাজ্যের মহিলাদের জন্য শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। আগামী ৩ জুন থেকেই এই প্রকল্পের প্রথম দফার অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে বলে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফে। পাশাপাশি আজ থেকেই সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে পরিষেবা চালু হয়েছে, যেখানে বাসে উঠলেই মিলছে ‘জ়িরো ব্যালান্স’-এর টিকিট। তবে ৩ জুনের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তির কড়কড়ে ৩ হাজার টাকা পেতে হলে উপভোক্তাদের আজই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের জন্য নতুন নিয়ম
অনেকের মধ্যেই এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, যাঁরা আগে পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পেতেন, তাঁদের নাম হয়তো নিজে থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। রাজ্য সরকার এই জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই টাকা পাবেন না। ৩,০০০ টাকার নতুন ব্র্যাকেটে নিজেদের নাম তুলতে গেলে আগের প্রাপকসহ প্রত্যেক আবেদনকারীকেই বাধ্যতামূলকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।
যে সমস্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন ফর্ম জমা করতে পারবেন না, তাঁরা জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বেসলাইন টাকা হিসেবে ১,৫০০ টাকা পাবেন। তবে নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো ৩,০০০ টাকা তখনই চালু হবে, যখন তাঁদের নতুন আবেদনপত্রটি সরকারিভাবে খতিয়ে দেখে অনুমোদন দেওয়া হবে।
কড়া সময়সীমা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
জুন মাসেই ৩,০০০ টাকার প্রথম কিস্তি পেতে হলে আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২ জুন। আপনি যদি ২ জুনের পর ফর্ম জমা দেন, তবে কোনওভাবেই জুন মাসের কিস্তি পাবেন না। কারণ আবেদনপত্র ও নথিপত্র যাচাই করতে কিছুটা সময় লাগবে এবং সেক্ষেত্রে নাম পরবর্তী মাসের তালিকায় নথিভুক্ত হবে।
এই প্রকল্পের প্রশাসনিক কাজ ইতিমধ্যেই পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়েছে। আবেদনপত্র আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সঠিকভাবে বাড়িতে দিচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে এবং সামগ্রিক নজরদারির জন্য ২২টি জেলার জন্য ২২ জন সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পর্যায়ের আইএএস অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। নবান্নের বেঁধে দেওয়া টার্গেট অনুযায়ী ২ জুনের মধ্যেই সমস্ত যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও ফর্ম পূরণ করা যাচ্ছে। অফলাইনে বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা ও ওয়ার্ড অফিসে এই ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাচ্ছে।
বাধ্যতামূলক ব্যাঙ্ক ও আধার সংযোগ
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শর্ত হলো ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT)। রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক থাকলে, তবেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার এবং এনপিসিআই (NPCI) ডিবিটি লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টেই যায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। ব্যাঙ্কে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে যেমন ডিবিটি করা যায়, তেমনই এনপিসিআই-র ওয়েবসাইট এবং উমঙ্গ অ্যাপ থেকেও এই লিঙ্ক করা সম্ভব। তাই জুন মাসের শুরুতেই ৩ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে পেতে হলে আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের এই সংযোগ আজই নিশ্চিত করতে হবে।