ভারতের জমি দখল করেছে নেপালও! সংসদে বলেন্দ্র শাহের বিস্ফোরক দাবিতে নতুন বিতর্ক

ভারতের জমি দখল করেছে নেপালও! সংসদে বলেন্দ্র শাহের বিস্ফোরক দাবিতে নতুন বিতর্ক

ভারত ও নেপালের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে এবার এক অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নেপালের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। রবিবার নেপালের সংসদে প্রথমবার ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ভারত শুধু নেপালের জমি দখল করেনি, নেপালও ভারতের কিছু ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাস পর সংসদে দেওয়া এই ভাষণে বলেন্দ্র শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি উভয় পক্ষের এই জমি দখলের বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। তবে এই সংকটকে চিরতরে জিইয়ে না রেখে, দুই দেশের উচিত যৌথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা। দীর্ঘদিনের এই সীমান্ত বিরোধ মেটাতে নেপাল ইতিপূর্বে ভারতকে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে এবং নয়াদিল্লির কাছ থেকে তার জবাবও মিলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাধানে যৌথ দল ও ঔপনিবেশিক ইতিহাসের দায়

কালাজল, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরার মতো বিতর্কিত অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে নেপালের প্রধানমন্ত্রী একটি দ্বিপাক্ষিক যৌথ দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই দলে জরিপ বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি স্থানীয় ভৌগোলিক সীমান্ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বলেন্দ্র শাহ এই বিষয়ে চীন এবং ব্রিটেনের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সীমান্ত বিরোধের মূল সূত্রপাত ব্রিটিশ আমলে। তাই তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসক হিসেবে এই জট খুলতে ব্রিটিশ সরকারেরও আগ্রহ দেখানো উচিত এবং এই বিষয়ে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক বিরোধ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব

ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাজল অঞ্চল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০২০ সালের জুন মাসে নেপাল সরকার তাদের দেশের একটি নতুন মানচিত্র অনুমোদন করে, যেখানে এই তিনটি অঞ্চলকে নেপালের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই সময় ভারতের বিদেশমন্ত্রক নেপালের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় টানাপোড়েন তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিমুখী স্বীকারোক্তি—যেখানে তিনি ভারতের পাশাপাশি নেপালের তরফেও জমি দখলের কথা বলেছেন—তা সীমান্ত বিতর্ককে এক নতুন মোড় দিতে পারে। একদিকে এটি যেমন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটি কূটনৈতিক চেষ্টা হতে পারে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষ করে ব্রিটেন ও চীনকে এই বিতর্কে জড়ানোর প্রয়াস নয়াদিল্লির সঙ্গে কাঠমান্ডুর সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন দেখার, নেপালের এই যৌথ তদন্তের প্রস্তাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রক কীরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *